ইসলামবাদে ২১ ঘণ্টার দীর্ঘ স্নায়ুক্ষয়ী আলোচনার পরও কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে পারেনি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তেহরান ওয়াশিংটনের দেওয়া শর্ত বিশেষ করে পারমাণবিক কর্মসূচি ও হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত দাবিগুলো প্রত্যাখ্যান করায় ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স পাকিস্তান ত্যাগ করেছেন। তবে এই অচলাবস্থার পর আগামী দিনগুলোতে সংঘাত কোন দিকে মোড় নিতে পারে, তা নিয়ে তিনটি সম্ভাব্য পথ দেখছেন বিশ্লেষকরা।
রোববার (১২ এপ্রিল) সকালে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম টাইমস নাও ওয়ার্ল্ড এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায়।
বিশ্লেষণী প্রতিবেদনে টাইমস নাও ওয়ার্ল্ড জানায় ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট সামাধানে সামনে এখন ৩টি পথ রয়েছে। যা যথাক্রমে -
- আলোচনার ধারাবাহিকতা
- যুদ্ধবিরতির শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা
- আমেরিকার কঠোর সামরিক পদক্ষেপ
আলোচনার ধারাবাহিকতা
জেডি ভ্যান্স ইসলামাবাদ ত্যাগ করলেও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় আলোচনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। ইরানের আধা-সরকারি সংবাদমাধ্যম তাসনিম নিউজের মতে, কারিগরি পর্যায়ে নথিপত্র বিনিময় এবং নিম্নপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের মধ্যে আলোচনা আরও একদিন বাড়তে পারে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘেই জানিয়েছেন, কিছু বিষয়ে সমঝোতা হলেও ২-৩টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে তীব্র মতপার্থক্য রয়ে গেছে। ৪০ দিনের যুদ্ধের পর এক বৈঠকে সব মিটে যাবে এমন প্রত্যাশা করা অবাস্তব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
যুদ্ধবিরতির শেষ পর্যন্ত অপেক্ষা
গত ৮ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া দুই সপ্তাহের শর্তাধীন যুদ্ধবিরতি এখনো কার্যকর আছে। আনুষ্ঠানিক আলোচনা থমকে গেলেও উভয় পক্ষ এই সময়ের মধ্যে পর্দার আড়ালে বা 'ব্যাকচ্যানেল' কূটনীতি চালিয়ে যেতে পারে।
জেডি ভ্যান্স ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের ‘সর্বশেষ ও সেরা’ প্রস্তাবটি টেবিলে রেখে এসেছে। এখন দেখার বিষয় যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার আগে ইরান সেটি গ্রহণ করে কি না।
আমেরিকার কঠোর সামরিক পদক্ষেপ
সবচেয়ে আশঙ্কাজনক পথটি হলো আমেরিকার 'প্ল্যান বি' বা সামরিক হামলা। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইতোমধ্যেই হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তার রণতরীগুলো অত্যাধুনিক অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত করা হচ্ছে। চুক্তি না হলে তিনি ইরানকে লক্ষ্য করে কঠোর হামলা চালানোর হুমকি দিয়েছেন। মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকার ক্রমবর্ধমান সামরিক উপস্থিতি এবং ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক বক্তব্য এই আশঙ্কার পালে হাওয়া দিচ্ছে।
উল্লেখ্য, এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত কয়েক হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ থাকায় বিশ্ব অর্থনীতিতে জ্বালানি সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। এখন কূটনৈতিক সমাধানের জানালা বন্ধ হয়ে গেলে এই অঞ্চল এক ভয়াবহ অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হতে পারে। সূত্র

