শান্তিচুক্তি আলোচনার আদ্যপান্তে লেবানন-ইসরায়েল

আপডেট : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:২১ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটনে মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে গত চার দশকেরও বেশি সময় পর সর্বোচ্চ পর্যায়ের সরাসরি আলোচনা শুরু হয়েছে, যেখানে মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে হিজবুল্লাহ ইস্যু। আলোচনাটি মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক উত্তেজনার মধ্যে একটি বিরল কূটনৈতিক অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী গিডিওন জার বলেছেন, ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে বড় কোনো মৌলিক বিরোধ নেই; মূল সমস্যা হলো হিজবুল্লাহ, যা দুই দেশের মধ্যে সংঘাত ও অস্থিতিশীলতার প্রধান উৎস।

তিনি জানান, আলোচনায় হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়ে সহযোগিতা নিয়েই এগোনোর চেষ্টা থাকবে, যাতে পরবর্তী ধাপে লেবাননের সঙ্গে শান্তি ও স্বাভাবিক সম্পর্ক স্থাপনের পথ খুলে যায়।

ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, লক্ষ্য হলো একটি 'ঐতিহাসিক ও টেকসই শান্তি চুক্তি', যা দীর্ঘমেয়াদে দুই দেশের সম্পর্ককে স্থিতিশীল করতে পারে।

অন্যদিকে লেবাননের পক্ষ থেকে আলোচনায় প্রাথমিক শর্ত হিসেবে যুদ্ধবিরতির দাবি তোলা হবে বলে জানানো হয়েছে। পাশাপাশি লেবাননের ভূখণ্ড থেকে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের বিনিময়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিষয়টি আলোচনায় কেন্দ্রীয় অবস্থানে থাকবে।

তবে লেবাননের সামরিক সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় হিজবুল্লাহকে জোরপূর্বক নিরস্ত্র করা বাস্তবে কঠিন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। এ কারণে আলোচনার ফলাফল নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাচ্ছে।

হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য ওয়াফিক সাফা জানিয়েছেন, এই আলোচনা তাদের কাছে কোনো গুরুত্ব বহন করে না। সংগঠনটি সরাসরি এই কূটনৈতিক প্রক্রিয়ায় নিজেদের অনাগ্রহও প্রকাশ করেছে।

১৯৮৩ সালের পর এই ধরনের সরাসরি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক অত্যন্ত বিরল, এবং বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এটি একদিকে শান্তির সম্ভাবনা তৈরি করলেও অন্যদিকে নতুন সংঘাতের ঝুঁকিও বহন করছে। সূত্র: সিএনএন

AS/AHA
আরও পড়ুন