প্রাচীন বাংলার অনন্য বিদ্যাপীঠ সোমপুর বিশ্ববিদ্যালয়

আপডেট : ১৮ এপ্রিল ২০২৬, ০১:০০ পিএম

প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবনমুখী আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়। পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়।

এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়-শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।

পাল রাজবংশের প্রতিষ্ঠাতা গোপালের পুত্র ধর্মপাল (৭৮১-৮২২ খ্রি.) সোমপুর বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। এটি অধুনা বাংলাদেশের নওগাঁ জেলার বদলগাছির পাহাড়পুরে অবস্থিত। এটি পাহাড়পুর বিহার নামে অধিক পরিচিত।

এই বিশ্ববিদ্যালয়টিতে হিন্দু-বৌদ্ধ ও জৈন ধর্ম সম্পর্কিত বিষয়ে উচ্চতর পাঠদান করা হতো। গোপালের পুত্র ধর্মপাল সিংহাসনে করে দীর্ঘকাল রাজত্ব করার পাশাপাশি সাম্রাজ্যকে বাংলা বিহার ছাড়িয়ে পাকিস্তানের উত্তর পশ্চিম সীমান্তের গঙ্গা পর্যন্ত বিস্তৃত করেন। সম্রাট ধর্মপাল অনেক নিষ্ঠাবান বৌদ্ধ ছিলেন। বাংলায় তিনি সোমপুর সহ ভাগলপুরে বিক্রমশীলা, জগদ্দল, কুমিল্লার শালবন বিহার নির্মাণ করেন।

ইউনেস্কোর মতে, সোমপুর বিশ্ববিদ্যালয় দক্ষিণ হিমালয়ের দ্বিতীয় বৃহত্তম শিক্ষালয়। আয়তনে নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় এর সাথে তুলনা করা যেতে পারে। সোমপুর বিশ্ববিদ্যালয় চারশো বছর ধরে বিকাশ লাভ করে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত স্থায়ী ছিল। শুধু ভারতীয় উপমহাদেশ থেকেই নয়; চীন, জাপান, কোরিয়া, তিব্বত, ব্রহ্মদেশ, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া প্রভৃতি দেশের বিদ্যার্থী ও গবেষক উচ্চতর জ্ঞান লাভের উদ্দেশ্যে এই শিক্ষায়তনে ছুটে আসতেন। তখন রাজশাহীর নাম ছিল মহাকালগড়। খ্রিষ্টীয় দশম শতকে খ্যাতিমান ও গর্বিত বাঙালি পণ্ডিত অতীশ দীপঙ্কর শ্রীজ্ঞান সোমপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপক ও আচার্যের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

লেখক: শিক্ষক, গবেষক 
চেয়ারম্যান (অব)
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড।

YA/FJ
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত