প্রাচীন বাংলা তথা ভারতীয় উপমহাদেশে যে ধর্মশিক্ষা ভিত্তিক প্রতিষ্ঠানগুলো গড়ে উঠেছিল তা কালের আবর্তে প্রায় সবগুলোই লয়প্রাপ্ত। সেই বৈদিকশিক্ষা থেকে শুরু করে পাল শাসনামলেই পূর্ণমাত্রায় যা বিকশিত হয়। পাল রাজারা বৌদ্ধ ধর্মের পৃষ্ঠপোষকতা করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ করলেও পরবর্তীতে নানামুখী বিজ্ঞান ভিত্তিক জীবনমুখী আধুনিক শিক্ষার রূপ পায়। পশ্চিমা বিশ্ব তথা উত্তর আমেরিকা ও পশ্চিম ইউরোপের জন্য ছিল অনুকরণীয়।
এ পর্যায়ে অবিভক্ত বাংলায় তথা ভারতীয় উপমহাদেশের প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন থেকে প্রাপ্ত তথ্য নিয়ে প্রাচীন কিছু বিশ্ববিদ্যালয় ও এগুলোর পরিচয়-শিক্ষা-কার্যক্রম সংক্ষিপ্ত পরিসরে উপস্থাপন করা হলো।

অধুনা পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীরের নীলম নদীর তীরে অবস্থিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি। এটি মূলত সরস্বতী দেবীর প্রাচীনতম মন্দির হিসেবে খ্যাত। ভারতীয় উপমহাদেশে মন্দির বিশিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম সারদাপীঠ ,যার প্রতিষ্ঠা ও ব্যাপ্তিকাল ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শতাব্দী পর্যন্ত। পাঠাগার ও পৌরাণিক গল্পগ্রন্থের জন্য প্রসিদ্ধি লাভ করায় পণ্ডিতরা দূরদূরান্ত থেকে এখানে ছুটে আসতেন। এটি উত্তর ভারতের শারদা লিপির বিকাশ ও জনপ্রিয় করণে অন্যতম ভূমিকা পালন করেছিল বলে 'কাশ্মীর শারদাদেশ' নামে খ্যাতি অর্জন করে।
উল্লেখযোগ্য পণ্ডিতদের মধ্যে ইতিহাস ও সংস্কৃতে কাশ্মীরের রজত রঙ্গিনীর লেখক কালহানা, দার্শনিক ও অদ্বৈত বেদান্তের মতবাদক সুসংহতকারী আদি শংকর, তিব্বতি লিপি অনুবাদক ও তিব্বতি লিপি আবিষ্কারক থামনি সম্ভোতা, বৈরোতসোনা, বৌদ্ধ পণ্ডিত কুমারজীব অন্যতম। এই বিশ্ববিদ্যালয়টি এই উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয় ছিল। একটি ধর্মীয় বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে কাশ্মীরী পণ্ডিতদের তিনটি বিখ্যাত তীর্থ বা পবিত্র স্থান গুলোর মধ্যে এটি অন্যতম। অন্য দুটি হলো; মার্তন্ড সূর্যমন্দির এবং অমরনাথ মন্দির। ২০০৫ সালের ভূমিকম্পে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির প্রভূত ক্ষতি সাধিত হয়।
লেখক: শিক্ষক, গবেষক
চেয়ারম্যান (অব)
রাজশাহী শিক্ষাবোর্ড।
ইতিহাসের সাক্ষী নওগাঁর জগদ্দল বিশ্ববিদ্যালয়