ওপেক থেকে নাম প্রত্যাহার করে নিলো আরব আমিরাত

আপডেট : ২৯ এপ্রিল ২০২৬, ১১:০৯ এএম

বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার মধ্যেই তেল রপ্তানিকারক জোট ওপেক থেকে নাম প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে সংযুক্ত আরভ আমিরাত। একইসঙ্গে ওপেক প্লাস থেকেও সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত জানিয়েছে দেশটি। শুক্রবার থেকে কার্যকর হতে যাওয়া এই পদক্ষেপ বৈশ্বিক অর্থনীতি ও তেলবাজারে বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত আমিরাতের দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত ও অর্থনৈতিক পরিকল্পনার অংশ। 'জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিতেই এখন আমাদের মনোযোগ সরাতে হচ্ছে'—এমন বার্তা দিয়ে জোট ছাড়ার ঘোষণা দেয় আবুধাবি।

দীর্ঘদিনের সদস্য আমিরাতের এই প্রস্থান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর ঐক্যে ফাটল ধরাতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। নানা ইস্যুতে অভ্যন্তরীণ মতভেদ থাকা সত্ত্বেও এতদিন একক অবস্থান বজায় রাখার চেষ্টা করত ওপেক।

দেশটির জ্বালানিমন্ত্রী সুহেইল মুহাম্মাদ আল মাজরুই জানান, উৎপাদন নীতি ও ভবিষ্যৎ কৌশল পর্যালোচনার পরই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেন, এ বিষয়ে অন্য কোনো দেশের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি।
এই সিদ্ধান্ত এসেছে এমন এক সময়ে, যখন হরমুজ প্রণালি ঘিরে ঘিরে উত্তেজনা এবং যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে জ্বালানি সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের বড় অংশ এই সরু জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হওয়ায় যে কোনো বিঘ্নই বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওপেককে তেলের দাম বাড়িয়ে বিশ্বকে ‘চাপে ফেলার’ অভিযোগ করেছিলেন। একইসঙ্গে উপসাগরীয় দেশগুলোর নিরাপত্তা ও তেলের দামের মধ্যে সম্পর্কের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

১৯৬৭ সালে আবুধাবির মাধ্যমে এবং ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আমিরাত ওপেকে যোগ দেয়। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের উৎপাদন বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে জোটটির প্রভাব কিছুটা কমেছে।

বিশেষ করে সৌদি আরব ও আমিরাতের মধ্যে অর্থনীতি ও আঞ্চলিক রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা বেড়েছে। Red Sea ঘিরে এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও স্পষ্ট হয়েছে। জ্বালানি গবেষণা প্রতিষ্ঠান Rystad Energy বলছে, দৈনিক প্রায় ৪৮ লাখ ব্যারেল উৎপাদন সক্ষমতা সম্পন্ন একটি দেশের বিদায় ওপেকের জন্য বড় ধাক্কা।

প্রতিষ্ঠানটির বিশ্লেষক জর্জ লিওন মনে করেন, এতে বাজার স্থিতিশীল রাখার ক্ষেত্রে জোটের সক্ষমতা কমে যাবে এবং মূল্য নিয়ন্ত্রণে চাপ বাড়বে।

সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত