ইউরেনিয়াম ইস্যুতে পুতিন যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তা করতে চান: ট্রাম্প

আপডেট : ৩০ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৫৯ এএম

মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপ—দুটি যুদ্ধপ্রবাহকে এক সুতোয় গেঁথে নতুন কূটনৈতিক ইঙ্গিত দিলেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ভ্লাদিমির পুতিন টেলিফোন আলাপে ইরানের ইউরেনিয়াম মজুত সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছেন।

ওভাল অফিসে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, পুতিনের আগ্রহ মূলত ইরান-এর সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেওয়া বা সরিয়ে নেওয়ার মাধ্যমে চলমান উত্তেজনায় ভূমিকা রাখা। তবে তিনি স্পষ্ট করে দেন, এই সহযোগিতা বিবেচনার আগে ইউক্রেন যুদ্ধের অবসানই তার প্রধান অগ্রাধিকার।

ট্রাম্পের ভাষায়, আলোচনাটি ছিল ‘খুবই ফলপ্রসূ’ এবং ইউক্রেন সংকটের একটি সমাধান তুলনামূলক দ্রুতই আসতে পারে। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দেন, ইরানের ইউরেনিয়াম ইস্যুতে রাশিয়া মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকায় এগিয়ে আসতে চায়।

এর আগে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির আদলে মস্কো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার ধারণা দিয়েছিল। যদিও ট্রাম্প সরাসরি তা নাকচ করেননি, তবুও তার অবস্থান স্পষ্ট, বর্তমানে মূল ফোকাস ইউক্রেন যুদ্ধ থামানো।

ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে ট্রাম্প বলেন, পুতিন অনেক আগেই একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত ছিলেন, কিন্তু বিভিন্ন কারণে তা সম্ভব হয়নি। এখন সেই বাধা কেটে যাওয়ায় দ্রুত সমাধানের আশা দেখছেন তিনি।

এই কৌশলের ভেতরে রয়েছে দ্বিমুখী লক্ষ্য, একদিকে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে নিয়ন্ত্রণে আনা, অন্যদিকে রাশিয়ার সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেন যুদ্ধে একটি গ্রহণযোগ্য সমাপ্তি নিশ্চিত করা।

এর আগে ২০১৫ সালের পারমাণবিক চুক্তির (জেসিপিওএ) আদলে মস্কো ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম নিজেদের জিম্মায় নেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিল। ট্রাম্প বুধবার এই প্রস্তাবটি সরাসরি নাকচ করে না দিলেও তার মূল মনোযোগ যে বর্তমানে ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের দিকে, সেটি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেছেন।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিনের পরিচিত পুতিনের সঙ্গে তার ব্যক্তিগত সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বলেন, রুশ প্রেসিডেন্ট অনেক আগেই একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত ছিলেন। ট্রাম্পের মতে, কিছু মানুষের কারণে পুতিনের পক্ষে তখন সমঝোতা করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এখন সেই বাধা কাটিয়ে দ্রুত একটি সমাধানে পৌঁছানোর ব্যাপারে ট্রাম্প আশাবাদী। ট্রাম্প প্রশাসন মনে করছে, ইরান যাতে ভবিষ্যতে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে না পারে, সেজন্য তাদের ইউরেনিয়াম মজুত তৃতীয় কোনো দেশে সরিয়ে নেওয়া একটি কার্যকর সমাধান হতে পারে, আর রাশিয়া এই ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী হিসেবে আবির্ভূত হতে চায়।

বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই কৌশলটি একই সঙ্গে দুটি বড় বৈশ্বিক যুদ্ধের লাগাম টেনে ধরার একটি প্রয়াস। একদিকে পুতিনের সহায়তা নিয়ে ইরানের পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ন্ত্রণ করা এবং অন্যদিকে সেই সহায়তার বিনিময়ে ইউক্রেন যুদ্ধের একটি সম্মানজনক সমাপ্তি নিশ্চিত করা। 

যদিও ইউক্রেন যুদ্ধের অবসান নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি, তবে পুতিনের সঙ্গে তার এই কথোপকথন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ১ মে’র সময়সীমার আগে ট্রাম্পের এই কূটনৈতিক তৎপরতা ইরান ও ইউক্রেন, উভয় সীমান্তের উত্তেজনা প্রশমনে কতটা কার্যকর হয়, সেদিকেই এখন তাকিয়ে বিশ্ববাসী। সূত্র: সিএনএন

YA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত