হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন নিয়ে বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা ও বিভ্রান্তি ছড়িয়েছে। মাল্টার পতাকাবাহী এবং ভিয়েতনামগামী বিশাল আকৃতির তেলের ট্যাংকার ‘আজিওস ফানৌরিওস ১’ (Agios Fanourios I) নিয়ে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিন নিউজ এজেন্সি ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রদান করেছে।
সোমবার (১১ মে) সকালে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তিনটি তেলের ট্যাংকার তাদের ট্র্যাকিং সিস্টেম বা লোকেশন ট্র্যাকার বন্ধ রেখে গোপনে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে অন্যতম হলো ইরাকি অপরিশোধিত তেলবোঝাই ‘আজিওস ফানৌরিওস ১’ এবং ‘কিয়ারা এম’ (Kiara M)। ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের সম্ভাব্য হামলা বা হস্তক্ষেপ এড়াতেই জাহাজগুলো এই কৌশল অবলম্বন করেছে।
তবে এই রিপোর্টের কিছু সময় পরেই ইরানের তাসনিন নিউজ এজেন্সি সম্পূর্ণ ভিন্ন দাবি করেছে। তাদের তথ্যমতে, ভিয়েতনামগামী ওই ট্যাংকারটি কোনো লুকোচুরি ছাড়াই ইরানের নির্ধারিত নিরাপদ সামুদ্রিক পথ (designated route) ব্যবহার করে অত্যন্ত স্বাভাবিকভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে। ইরান দাবি করছে, তাদের নির্দেশিত নিয়ম মেনেই জাহাজটি ওমান সাগরে প্রবেশ করেছে।
‘আজিওস ফানৌরিওস ১’ ট্যাংকারটি প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত তেল নিয়ে ভিয়েতনামের নিঘি সন (Nghi Son) শোধনাগারের দিকে যাচ্ছে। আগামী ২৬ মে এটি সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
জানা গেছে, গত ১৭ এপ্রিল ইরাকের বসরা থেকে তেল লোড করার পর জাহাজটি এর আগে অন্তত দুইবার হরমুজ প্রণালি পার হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছিল।
বর্তমান যুদ্ধাবস্থায় হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ থাকায় তেলের প্রবাহ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এরই মধ্যে ট্রাম্প ইরানের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরান এই বার্তার মাধ্যমে এটিই বোঝাতে চাইছে যে, হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ এখনো তাদের হাতে এবং তাদের নিয়ম মেনে চললে জাহাজ চলাচলে কোনো সমস্যা হবে না। অন্যদিকে, ট্র্যাকার বন্ধ রাখার ঘটনাটি সমুদ্রপথে চলমান চরম নিরাপত্তাহীনতারই বহিঃপ্রকাশ। সূত্র: আলজাজিরা
আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে নতুন অস্থিরতা
হিজবুল্লাহর 'ফাইবার অপটিক' ড্রোনে দিশেহারা ইসরায়েল