২৩ পারমাণবিক বোমার সমান তাপ! 

যুক্তরাষ্ট্রে ‘এআই শহর’ নিয়ে তীব্র বিতর্ক

আপডেট : ২৭ মে ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির সম্প্রসারণে এক অভূতপূর্ব পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই পদক্ষেপ পরিবেশের জন্য কতটা নিরাপদ, তা নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন। 

আমেরিকার উটাহ অঙ্গরাজ্যের হ্যান্সেল ভ্যালিতে (Hansel Valley) প্রায় ৪০ হাজার একর জমির ওপর নির্মিত হতে যাচ্ছে একটি বিশাল ‘এআই ও জ্বালানি ক্যাম্পাস’।

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই প্রকল্পের আয়তন এতটাই বিশাল যে তা প্রায় ২,০০০টি বড় ‘ওয়ালমার্ট’ স্টোরের সমান। মূলত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে এই বিশাল পরিকাঠামো গড়ে তোলার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

উটাহ রাজ্যের চেয়েও দ্বিগুণ বিদ্যুৎ চাহিদা

‘স্ট্র্যাটোস প্রজেক্ট’-এর সবচেয়ে উদ্বেগের জায়গা হলো এর অবিশ্বাস্য বিদ্যুৎ চাহিদা। এই একটিমাত্র প্রকল্পের জন্য যা প্রয়োজন, তা পুরো রাজ্যের চাহিদাকেও হার মানায়।

৯ গিগাবাট বিদ্যুৎ: প্রকল্পটিতে নিরবচ্ছিন্ন ডেটা প্রসেসিংয়ের জন্য ৯ গিগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হবে।

রাজ্যের চাহিদার দ্বিগুণ: পুরো উটাহ রাজ্যের সর্বোচ্চ বিদ্যুৎ চাহিদা যেখানে মাত্র ৪ থেকে ৫ গিগাওয়াট, সেখানে একক এই ‘এআই শহর’ সচল রাখতেই তার দ্বিগুণেরও বেশি বিদ্যুৎ লাগবে।

পরিবেশের ওপর ভয়াবহ প্রভাব: ২৩টি পারমাণবিক বোমার সমান তাপ!

উটাহ স্টেট ইউনিভার্সিটির পদার্থবিদ্যার অধ্যাপক রবার্ট ডেভিস এই প্রকল্পের পরিবেশগত বিপর্যয় সম্পর্কে গুরুতর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। তার গবেষণা অনুযায়ী:

ভয়াবহ তাপ বিকিরণ: এই ডেটা সেন্টারটি প্রতিদিন পরিবেশে প্রায় ২৩টি পারমাণবিক বোমার সমান তাপশক্তি নির্গত করবে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি: হ্যান্সেল ভ্যালির ভৌগোলিক গঠন অনেকটা বাটির মতো (Bowl-shaped)। ফলে নির্গত তাপ বাইরে যেতে না পেরে ভেতরেই আটকে থাকবে। এতে ওই অঞ্চলের দিনের তাপমাত্রা ৫ ডিগ্রি এবং রাতের তাপমাত্রা প্রায় ২৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট পর্যন্ত বেড়ে যাওয়ার চরম ঝুঁকি রয়েছে।

তীব্র পানির সংকট ও গণঅসন্তোষ

বিশাল এই ডেটা সেন্টারের সার্ভার ও শীতলীকরণ (Cooling System) প্রক্রিয়া সচল রাখতে প্রতি বছর কোটি কোটি গ্যালন পানির প্রয়োজন হবে।

সরকারি হিসাব অনুযায়ী, প্রকল্পটিতে বার্ষিক প্রায় ১৩ হাজার একর-ফুট পানি ব্যবহৃত হবে।

এই বিপুল পরিমাণ পানি দিয়ে প্রায় ২০ হাজার পরিবারের দৈনন্দিন পানির চাহিদা মেটানো সম্ভব।

এই চরম পানি সংকটের আশঙ্কায় স্থানীয় বাসিন্দারা তীব্র প্রতিবাদ ও আন্দোলন শুরু করেছেন। সাম্প্রতিক এক গণ-শুনানিতে আন্দোলনকারীদের স্লোগান ছিল—‘মুনাফার চেয়ে মানুষ বড়’ এবং ‘ডেটা দিয়ে কি পানি পাওয়া যায়?’।

জনমত বনাম জাতীয় নিরাপত্তা: রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট


এই মেগা প্রকল্পটিকে ঘিরে বর্তমানে উটাহর সাধারণ মানুষ এবং নীতিনির্ধারকদের মধ্যে স্পষ্ট বিভাজন দেখা দিয়েছে।

জনমত: একটি সাম্প্রতিক জরিপ অনুযায়ী, উটাহের ৫৩ শতাংশ ভোটার এই প্রকল্পের সরাসরি বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। বিপরীতে সমর্থন করছেন মাত্র ৩০ শতাংশ মানুষ।

বিনিয়োগকারীদের যুক্তি: প্রকল্পের প্রধান বিনিয়োগকারী কেভিন ও’লেরি মনে করেন, বৈশ্বিক ‘এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতায়’ চীন বা অন্যান্য পরাশক্তির চেয়ে এগিয়ে থাকতে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এই প্রকল্প অপরিহার্য।

প্রশাসনের অবস্থান: উদ্ভূত পরিস্থিতিতে উটাহের গভর্নর স্পেন্সার কক্স জানিয়েছেন, প্রকল্পটিকে একবারে অনুমোদন দেওয়া হবে না। এটি ধাপে ধাপে এবং প্রতিটি পর্যায়ের পরিবেশগত প্রভাব পুঙ্খানুপুঙ্খ পরীক্ষা করেই কেবল চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

HN
আরও পড়ুন