ইরানের সাথে চলমান যুদ্ধবিরতি আলোচনায় আচমকা ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ বা ইসরায়েলের সাথে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণ চুক্তিকে জড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন কূটনীতির চাল চেলেছেন। তবে মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক বিশ্লেষক এবং সাবেক মার্কিন ও আরব কর্মকর্তাদের মতে, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মূলত ওয়াশিংটনের কৌশলগত দুর্বলতা ঢাকার চেষ্টা এবং আরব মিত্রদের বর্তমান মনোভাব বুঝতে তাঁর একটি বড় ধরনের ভুল হিসেব।
গত ফেব্রুয়ারি মাসে ইরানের বিরুদ্ধে আমেরিকা ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিতে এক বড় ধরনের ধাক্কা লাগে। বর্তমানে যে চুক্তিটি নিয়ে আলোচনা চলছে, তা মূলত ৬০ দিনের একটি নড়বড়ে যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রচেষ্টা। এর বিনিময়ে ইরানকে তেল বিক্রির ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা থেকে কিছুটা ছাড় দেওয়া হতে পারে, যার বিপরীতে তেহরান হরমুজ প্রণালী পুনরায় খুলে দেবে।
তবে বিশ্লেষকরা বলছেন, এই চুক্তিতে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের মতো প্রধান সামরিক সক্ষমতাগুলো হ্রাসের কোনো শর্ত নেই, যা যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনও প্রায় ৭০ শতাংশ সচল রয়েছে। সাবেক মার্কিন মধ্যপ্রাচ্য সমঝোতাকারী অ্যারন ডেভিড মিলার বিষয়টিকে ট্রাম্পের একটি পরিচিত চাল হিসেবে দেখছেন। তার মতে, ট্রাম্প বুঝতে পেরেছেন যে তিনি এমন একটি চুক্তির দিকে এগোচ্ছেন যা যুদ্ধের মূল লক্ষ্যগুলোকে পূরণ করে না, আর তাই তিনি এই আলোচনাকে একটি বিশাল চুক্তির রূপ দিয়ে মূল ব্যর্থতা আড়াল করতে চাইছেন।
এদিকে, সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের একটি বড় অংশ মনে করছে, ট্রাম্প আরব দেশগুলোর কাছ থেকে যুদ্ধ থামানোর জন্য এক ধরণের ‘পারিতোষিক’ বা প্রতিদান আশা করছেন। ট্রাম্প সম্প্রতি সৌদি আরব, কাতার ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলোকে ইসরায়েলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার আহ্বান জানিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, এই যুদ্ধের ফলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এই উপসাগরীয় দেশগুলোই। আমেরিকার নিরাপত্তার ওপর নির্ভরশীল এই রাজতন্ত্রগুলো যুদ্ধ শুরু না করার জন্য ওয়াশিংটনকে অনুরোধ করলেও, শেষ পর্যন্ত ইরানের হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাত তাদের শহর এবং জ্বালানি অবকাঠামোতেই এসে পড়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাবেক মার্কিন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ট্রাম্পের এই পুরো চিন্তাভাবনা একটি ভুল ধারণার ওপর ভিত্তি করে দাঁড়িয়ে আছে। যে দেশগুলোকে তিনি একটি অনাকাঙ্ক্ষিত যুদ্ধের মুখে ঠেলে দিলেন এবং যাদের শহর ও অবকাঠামো ধ্বংস হলো, ট্রাম্প ভাবছেন যুদ্ধ থামানোর জন্য উল্টো তারাই মার্কিন প্রশাসনকে কোনো অনুকম্পা বা সুবিধা দেবে।
পাশাপাশি, আরব কূটনীতিকদের ধারণা, ট্রাম্পের এই পদক্ষেপের পেছনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে সন্তুষ্ট করার একটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যও রয়েছে। ইসরায়েলে আগামী শরৎকালে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নেতানিয়াহু এই যুদ্ধ এখনই শেষ করার বিরোধী হলেও যদি আব্রাহাম অ্যাকর্ডসের পরিধি বাড়িয়ে যুদ্ধ শেষের একটি অজুহাত তৈরি করা যায়, তবে তা ব্যালট বাক্সে তাঁর দলকেই সুবিধা দেবে।
তবে বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, এই কৌশল সৌদি আরবের মতো বড় শক্তির ক্ষেত্রে খাটবে না। সংযুক্ত আরব আমিরাত ইতিমধ্যে ইসরায়েলের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক জোরদার করলেও, সৌদি আরব এই যুদ্ধের পর ইসরায়েলের প্রতি আরও বেশি সন্দিহান হয়ে উঠেছে। ফলে রিয়াদ এই মুহূর্তে কোনোভাবেই ট্রাম্পের সাজানো আব্রাহাম অ্যাকর্ডসে যোগ দেবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
একের পর এক ফ্লাইট বাতিল করছে আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনস
মধ্যপ্রাচ্যসহ বিভিন্ন দেশে পালিত হচ্ছে ঈদুল আজহা