ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত এখন আর আঞ্চলিক নয়, বরং একটি বৈশ্বিক সংকটে পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।
বৃহস্পতিবার (৪ জুন) সেন্ট পিটার্সবার্গে বিশ্বব্যাপী সংবাদ সংস্থাগুলোর প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন।
পুতিন আশা প্রকাশ করেন, কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাধ্যমে অবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের এই দীর্ঘমেয়াদী সংকটের একটি শান্তিপূর্ণ সমাধান আসবে।
‘ইউক্রেন সংকট স্থানীয়, কিন্তু ইরান সমস্যা বৈশ্বিক’
বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ইউক্রেন পরিস্থিতির সঙ্গে ইরানের তুলনা করে বলেন:
"ইউক্রেনের সংকটটি মূলত স্থানীয় বা আঞ্চলিক, কিন্তু ইরানকে ঘিরে যে সমস্যা তৈরি হয়েছে, তার প্রকৃতি সম্পূর্ণ বৈশ্বিক।"
তিনি আরও যোগ করেন, বৈশ্বিক এই পরিস্থিতির কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র (ওয়াশিংটন) প্রাথমিকভাবে এই বিষয়টি মোকাবেলা করতে বাধ্য হয়েছে।
ট্রাম্প ও মুজতবা খামেনির ওপর ভরসা পুতিনের
সংঘাত চলাকালীন ইরানি জনগণের ঐক্য ও সহনশীলতার উচ্চ প্রশংসা করেন রুশ নেতা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভবিষ্যতের যেকোনো নিষ্পত্তিতে বা চুক্তিতে ইরানিদের জাতীয় স্বার্থকে অবশ্যই বিবেচনায় নিতে হবে।
রুশ প্রেসিডেন্ট আশা প্রকাশ করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগ এবং ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনির নীতি এই অঞ্চলের সংকট কাটিয়ে একটি বড় সমঝোতার পথ প্রশস্ত করতে সাহায্য করবে। পুতিন বলেন, "আমরা আশা করি এই সংকটের একটি ইতিবাচক ফল আসবে এবং দ্রুত সংঘাত বন্ধ হবে। যদি কোনো কিছু রাশিয়ার ওপর নির্ভর করে, তবে আমরা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে সর্বদা প্রস্তুত।"
পারমাণবিক কর্মসূচির কূটনৈতিক সমাধান
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি ঘিরে বিশ্বজুড়ে যে উদ্বেগ রয়েছে, তা নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট কূটনৈতিক সমাধানের প্রতি মস্কোর সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন ভ্লাদিমির পুতিন।
তিনি ইঙ্গিত দেন যে, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-র প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামকে লঘু (ডিলিউট) করে সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ ও বেসামরিক পারমাণবিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে আন্তর্জাতিক মহলের উদ্বেগও কমবে।
সংঘাত থেকে রাশিয়ার লাভের অভিযোগ প্রত্যাখ্যান
ইরানকে একটি পরম 'বান্ধব দেশ' হিসেবে বর্ণনা করে পুতিন বলেন, তেহরানের সঙ্গে মস্কো ঘনিষ্ঠ ও গভীর আস্থার সম্পর্ক বজায় রাখছে। একই সাথে তিনি পশ্চিমা বিশ্বের এই ধারণা কঠোরভাবে প্রত্যাখ্যান করেন যে— জ্বালানি তেলের উচ্চমূল্যের মাধ্যমে এই সংঘাত থেকে রাশিয়া ফায়দা লুটছে।
পুতিন স্পষ্ট করে বলেন, "হ্যাঁ, বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম বেড়েছে এবং আমাদের কোম্পানিগুলো সাময়িকভাবে কিছুটা লাভবান হচ্ছে। কিন্তু এটি খুবই অস্থায়ী এবং স্বল্পমেয়াদী বিষয়। আমাদের আসল স্বার্থ হলো এই সংঘাত যত দ্রুত সম্ভব বন্ধ হওয়া।"
১ বছরও টিকবেন না মোদি, জারি করতে পারেন জরুরি অবস্থা
ঢাকাসহ ৫ জেলায় ঝড়ের পূর্বাভাস, নদীবন্দরে সতর্কতা