নিরাপত্তায় বড় বিনিয়োগ: স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ ৩১ হাজার কোটি টাকা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৬, ০৯:৩৭ পিএম

জাতীয় অর্থনীতির এক বিশাল ক্যানভাসে দাঁড়িয়ে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এক যুগান্তকারী বাজেট ঘোষণা করতে যাচ্ছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বৃহস্পতিবার বিকেলে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উপস্থিতিতে এই প্রস্তাবিত বাজেট পেশ করা হবে।

বর্তমান সরকারের চলতি মেয়াদে এটিই অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর প্রথম বাজেট, যা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতার এক নতুন রূপরেখা উন্মোচন করতে যাচ্ছে। আধুনিক সাংবাদিকতার মূল ধারা ও জাতীয় দৈনিকের প্রথম পাতার গুরুত্ব বিবেচনা করলে দেখা যায়, এবারের বাজেটে জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য বরাদ্দের অঙ্ক এক লাফে অনেকখানি বাড়ানো হয়েছে।

নতুন এই অর্থ বছরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জন্য মোট ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ দমনে এই বিপুল অর্থ ব্যয় করা হবে। বিদায়ী অর্থাৎ গত অর্থবছরে এই মন্ত্রণালয়ের মূল বরাদ্দ ছিল ২৭ হাজার ১ কোটি টাকা, যা পরবর্তীতে দেশের আইনশৃঙ্খলার বিশেষ পরিস্থিতি ও জরুরি প্রয়োজনে সংশোধিত বাজেটে কিছুটা বাড়িয়ে ২৭ হাজার ১৭৪ কোটি টাকায় উন্নীত করা হয়েছিল। সেই তুলনায় এবারের প্রস্তাবিত বরাদ্দ প্রায় চার হাজার কোটি টাকা বেশি, যা রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও জনমানুষের জানমালের সুরক্ষায় সরকারের বাড়তি মনোযোগের স্পষ্ট প্রতিফলন।

তবে এই বিশাল বাজেটের বাস্তবায়ন সরকারের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ ব্যয়ের তুলনায় আয়ের লক্ষ্যমাত্রার ব্যবধান বেশ চওড়া। এবারের বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। ফলে মোট আয় ও ব্যয়ের বিশাল ব্যবধানের কারণে বাজেট ঘাটতি গিয়ে দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকায়। এই বিশাল অঙ্কের ঘাটতি পূরণ এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতের উন্নয়ন গতিশীল রাখতে সরকারকে বড় রকমের ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

হিসাব অনুযায়ী, এই বাজেট ঘাটতি পূরণে সরকার দুইমুখী কৌশল গ্রহণ করেছে। এর মধ্যে বৈদেশিক উৎস অর্থাৎ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক দাতা সংস্থা, ঋণ ও অনুদান থেকে ১ লাখ ১৬ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহের পরিকল্পনা করা হয়েছে। অন্যদিকে, ঘাটতির সিংহভাগ অর্থাৎ ১ লাখ ২৭ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে। এই অভ্যন্তরীণ উৎসের ওপর সরকারের চাপ বরাবরের মতোই বেশি, যার মধ্যে দেশের ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই সরকার ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে ১ লাখ ১২ হাজার কোটি টাকা। আর বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করা হবে সাধারণ মানুষের সঞ্চয়পত্র এবং অন্যান্য সরকারি উৎস থেকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বর্ধিত বরাদ্দ মাঠ পর্যায়ের পুলিশ, র্যাব, বিজিবি ও কোস্টগার্ডের মতো বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধি, সীমান্ত সুরক্ষা এবং সাইবার অপরাধ দমনের মতো আধুনিক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহল। অর্থমন্ত্রীর এই প্রথম বাজেটটি একদিকে যেমন দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত করার এক বড় সাহসী পদক্ষেপ, অন্যদিকে বিশাল ব্যাংক ঋণের ওপর নির্ভরতার কারণে সামষ্টিক অর্থনীতির ওপর কেমন চাপ সৃষ্টি করে, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Attr/AHA
আরও পড়ুন