নজরদারিহীন গড়াই নদী: অবাধে জাটকা শিকার, হাটে প্রকাশ্যে বিক্রি

আপডেট : ১৩ জুন ২০২৬, ১১:৫০ এএম

কুষ্টিয়ার গড়াই নদীতে কয়েক বছর ধরে জাটকার বিচরণ উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেলেও তা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপের অভাব দেখা দিয়েছে। এক শ্রেণির অসাধু জেলে নিষিদ্ধ সময়ে ও অবৈধ উপায়ে জাটকা শিকার করে নদীতীরবর্তী বিভিন্ন হাট-বাজারে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারের মৎস্য বিভাগ জাটকা সংরক্ষণে দৃশ্যমান কোনো অভিযান বা নজরদারি পরিচালনা করছে না।

স্থানীয় প্রবীণদের ভাষ্য, এক সময় বর্ষা মৌসুমে গড়াই নদীতে প্রচুর ইলিশ ধরা পড়ত। কিন্তু শুষ্ক মৌসুমে নদীর নাব্যতা ও পানি প্রবাহ কমে যাওয়ার ফলে গড়াইয়ে ইলিশের বিচরণ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। তবে গত কয়েক বছরে শুষ্ক মৌসুমেও নদীতে বিপুল পরিমাণ জাটকা দেখা যাচ্ছে, যা ইলিশের প্রজনন ও বিস্তারের জন্য ইতিবাচক লক্ষণ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

কিন্তু এই সম্ভাবনাকে হুমকির মুখে ফেলছে অসাধু জেলেদের নির্বিচার জাটকা শিকার। অভিযোগ রয়েছে, তারা সূক্ষ্ম ফাঁসের জাল ব্যবহার করে ছোট আকারের জাটকা ধরে বাজারজাত করছে। এসব জাটকা কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা ও রাজবাড়ি জেলার গড়াই নদীতীরবর্তী বিভিন্ন হাট-বাজারে বিক্রি হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কুষ্টিয়ার কুমারখালী ও খোকসা, ঝিনাইদহের শৈলকুপা, মাগুরার শ্রীপুর এবং রাজবাড়ির পাংশা ও বালিয়াকান্দি উপজেলার নদীতীরবর্তী বাজারগুলোতে নিয়মিত জাটকা বিক্রি হচ্ছে। দেখতে চাপিলা মাছের মতো হওয়ায় অনেক ক্রেতা সহজে তা শনাক্ত করতে পারেন না। বর্তমানে প্রতি কেজি জাটকা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে।

কুমারখালী উপজেলার পান্টি এলাকার জেলে আব্দুল কাদের জানান, ভোর থেকে সকাল পর্যন্ত গড়াই তীরবর্তী বিভিন্ন বাজারে জাটকা বিক্রি হয়। ঝিনাইদহ জেলা শহরের হাটে প্রতি রোববার ও বৃহস্পতিবার এবং শৈলকুপা হাটে শনিবার ও মঙ্গলবার জাটকা বিক্রির দৃশ্য প্রায়ই দেখা যায়।

স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, জাটকা সংরক্ষণে সরকার প্রতিবছর বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করলেও গড়াই নদী এলাকায় তার বাস্তব প্রয়োগ খুব একটা চোখে পড়ে না। ফলে অবাধে জাটকা শিকার চলতে থাকলে ভবিষ্যতে ইলিশ উৎপাদন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এ বিষয়ে ঝিনাইদহ জেলা মৎস্য কর্মকর্তা অভিজিৎ শীল বলেন, আমি সম্প্রতি ঝিনাইদহে যোগদান করেছি। বিষয়টি আমার জানা ছিল না। বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করব।

মৎস্য বিশেষজ্ঞদের মতে, জাটকা হচ্ছে ইলিশের ভবিষ্যৎ সম্পদ। তাই জাটকা নিধন বন্ধে নিয়মিত অভিযান, জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করা না গেলে ইলিশের উৎপাদন বৃদ্ধির জাতীয় লক্ষ্য ব্যাহত হতে পারে। গড়াই নদীতে জাটকার ক্রমবর্ধমান উপস্থিতি যেমন আশার বার্তা দিচ্ছে, তেমনি তা রক্ষায় দ্রুত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

YA
আরও পড়ুন