হরমুজ নিয়ে ইরান-ওমানের পাল্টাপাল্টি প্রস্তাব, কাটেনি অনিশ্চয়তা

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০৮:৪৪ এএম

হরমুজ প্রনালির ভবিষ্যৎ ব্যবস্থাপনা নিয়ে আঞ্চলিক উত্তেজনা ও মতপার্থক্য নিরসনে পরস্পরের কাছে নতুন প্রস্তাব হস্তান্তর করেছে ইরান ও ওমান।

সীমান্ত সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালন ব্যবস্থা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এখনও বেশ কিছু বিষয়ে মতবিরোধ রয়েছে।

রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ওমান ইরানকে একটি যৌথ আঞ্চলিক পদ্ধতির অধীনে স্বেচ্ছাসেবী ফি বা অনুদানের বিনিময়ে হরমুজ প্রনালি পরিচালনার প্রস্তাব দিয়েছে।

আঞ্চলিক সমর্থনপুষ্ট এই প্রস্তাবে বলা হয়েছে, ইরান এককভাবে এই প্রনালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে পারবে না। ওমানের এই প্রস্তাবটি মূলত মালাক্কা প্রনালির মডেলে তৈরি, যেখানে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুর জলপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোর কাছে নৌ-সঞ্চালন, পরিবেশ সুরক্ষা ও উদ্ধার অভিযানের খরচের জন্য স্বেচ্ছায় অনুদান চেয়ে থাকে।

যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধের কারণে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে যে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে, তা নিরসন করাই এই প্রস্তাবের মূল লক্ষ্য। তবে তেহরান সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যুদ্ধপূর্ববর্তী সময়ের মতো আর অবাধে জলপথটি ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না।

ইরানের আন্তর্জাতিক ও আইনি বিষয়ক উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘরিবাবাদী জানান, ওমানের পক্ষ থেকে দুই দেশের মধ্যে রুট ৫০-৫০ ভিত্তিতে সমানভাগে ভাগ করে নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, যা তেহরানের নিরাপত্তার স্বার্থের পরিপন্থী হওয়ায় তারা তা প্রত্যাখ্যান করেছে।

তবে তেহরান পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে যে, তারা প্রনালির তাদের নিজস্ব অংশের লেন নিয়ন্ত্রণ করবে এবং ওমান তাদের প্রান্তের কিছু অংশ পরিচালনা করতে পারবে।

ঘরিবাবাদী আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনার পরিকল্পনা তেহরানের নেই, তবে ওমানের সাথে ধাপে ধাপে আলোচনা এগোচ্ছে। এমনকি জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে যুদ্ধ আবার শুরু করা সহ যেকোনো পদক্ষেপ নিতে তেহরান দ্বিধা করবে না বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।

এদিকে তেহরান থেকে আল জাজিরার সাংবাদিক রসুল সরদার জানান, ওমান তিন লাইনের নৌ-চলাচল রুটের প্রস্তাব দিয়েছে—ইরানের সীমানা, আন্তর্জাতিক অঞ্চল এবং ওমানের সীমানা। তবে প্রকাশ্যে কড়া বক্তব্য দিলেও অভ্যন্তরীণভাবে তেহরান কিছুটা নমনীয়তা দেখাচ্ছে।

অন্যদিকে সাংবাদিক তৌহিদ আসাদি জানান, প্রনালি দিয়ে জাহাজের গতিপথ, পরিষেবা ফি নির্ধারণ এবং মাইনিং/মাইন অপসারণ (যা ইরানের দায়িত্বে থাকবে) নিয়ে ওমান ও ইরানের মধ্যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য বিদ্যমান। ওমানের মালাক্কা মডেলে বাৎসরিক সর্বোচ্চ ৭০ মিলিয়ন ডলার উঠতে পারে, অথচ তেহরান প্রতিটি জাহাজ থেকে সার্ভিস ফি বাবদ ১ মিলিয়ন ডলার দাবি করার গুঞ্জন রয়েছে।

এদিকে বিষয়টিতে যৌথ পদক্ষেপ নিতে মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) ভার্চ্যুয়াল বৈঠকে বসেন উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। এতে প্রনালিতে মুক্ত নৌ-চলাচল নিশ্চিত ও স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আলোচনা হয়।

বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহনকারী এই জলপথটিতে নৌ-চলাচল স্বাভাবিক করতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীদের চাপে সম্প্রতি ইরানে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে চালানো বিমান হামলা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। সূত্র: আল-জাজিরা

YA
আরও পড়ুন