ওপেন-সোর্স এআইয়ে বিশ্বে নেতৃত্ব দিচ্ছে চীন

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০৪:৩৪ পিএম

সম্প্রতি চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রতিষ্ঠান মুনশট আনুষ্ঠানিকভাবে জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য তাদের সর্বশেষ ফ্ল্যাগশিপ বড় ভাষা মডেল কিমি কে-৩ সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেছে। ২.৮ ট্রিলিয়ন প্যারামিটারের এই এআই এখন বিশ্বের সবচেয়ে বড় ওপেন-সোর্স লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ বা বড় ভাষা মডেল। এত বড় একটি ফ্ল্যাগশিপ মডেল পুরোপুরি উন্মুক্ত করে দেওয়ার ঘটনা বিশ্বে এটাই প্রথম।

চলতি বছর থেকে চীনে বড় ভাষা মডেল উন্মুক্ত বা ওপেন-সোর্স করার গতি উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মাত্র ছয় মাসের মধ্যেই চীনের একাধিক শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানি তাদের প্রথম সারির মডেল জনসাধারণের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করেছে।

চলতি বছরের এক প্রতিবেদনে দেখা গেছে, চীনে তৈরি ওপেন-সোর্স মডেলের ডাউনলোড বৈশ্বিক মোট ডাউনলোডের ৪১ শতাংশ। বিশ্বে ব্যবহারের র‌্যাঙ্কিংয়ে প্রধান মডেলগুলোর শীর্ষ ছয়টিই চীনের তৈরি। গত ১২ মাসের মধ্যে ৯ মাস ধরেই সর্বোচ্চ প্যারামিটারের ওপেন-সোর্স মডেলের রেকর্ড চীনের দখলে।

পরিসরের বিবেচনায়ও চীনের ওপেন-সোর্স মডেল ইকোসিস্টেম বেশ বৈচিত্র্যময়। ইতোমধ্যে কয়েকশ মিলিয়ন থেকে কয়েকশ বিলিয়ন প্যারামিটার পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরের মডেল তৈরি হয়েছে। ছোট মডেলগুলো মোবাইল ফোন, স্মার্ট ডিভাইস কিংবা কারখানার যন্ত্রপাতিতে অফলাইনে চালানো যায়। বড় মডেলগুলো জটিল গবেষণা, সফটওয়্যার উন্নয়ন এবং উচ্চমাত্রার বিশ্লেষণমূলক কাজ করছে। ফলে ব্যক্তিগত ব্যবহারকারী থেকে বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠান—সব পর্যায়েই পাওয়া যাচ্ছে এআই সমাধান।

প্রয়োগের ক্ষেত্রেও চীনের ওপেন-সোর্স মডেল দ্রুত বিস্তৃত হচ্ছে। সাধারণ কিছু কাজ তো আছেই, সেই সঙ্গে অটোমোবাইল, যন্ত্র নির্মাণ, বিদ্যুৎ, চিকিৎসাসহ বিভিন্ন শিল্পের জন্য বিশেষায়িত বড় ভাষা মডেলও তৈরি করা হয়েছে। এসব মডেল শিল্পক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ও পেশাগত জ্ঞানকে সরাসরি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সক্ষমতায় রূপান্তর করছে। শিল্পের বাস্তব প্রয়োগে পৌঁছানোর ‘শেষ মাইল’ পর্যন্ত যাবতীয় সমস্যার কার্যকর সমাধানও দিচ্ছে এগুলো।

মূল প্রযুক্তিতে ধারাবাহিক অগ্রগতির হাত ধরে চীনের উন্মুক্ত বড় ভাষা মডেল এখন বিশ্বের ওপেন-সোর্স এআই ইকোসিস্টেমের অন্যতম প্রধান শক্তি। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চীনের ওপেন-সোর্স মডেলের মোট ডাউনলোড সংখ্যা ইতোমধ্যে ১০ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। বিশ্বে ডাউনলোডের তালিকায় থাকা প্রতি ১০টি বড় ভাষা মডেলের মধ্যে ৬টিই চীনের তৈরি। 
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এখন দ্রুত গবেষণাগারের গণ্ডি পেরিয়ে উৎপাদনশিল্প, জ্বালানি, পরিবহন, স্বাস্থ্যসেবা এবং অন্যান্য বাস্তব অর্থনীতিতে গভীরভাবে একীভূত হচ্ছে। এতে শিল্পের রূপান্তর ও আধুনিকায়ন যেমন ত্বরান্বিত হচ্ছে, তেমনি প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয়ও কমছে।

এআই প্রযুক্তির শিল্পভিত্তিক প্রয়োগের নানা বাধা দূর করেছে ওপেন-সোর্স বা উন্মুক্ত মডেল। ফলে চীনের বড় ভাষা মডেল এখন আর শুধু ‘কথোপকথন’ বা ‘প্রশ্নোত্তর’-এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বাস্তব কাজ সম্পাদন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি এবং শিল্পক্ষেত্রে দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর সরঞ্জামে পরিণত হয়েছে। ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে উৎপাদন, জ্বালানি, পরিবহন, আর্থিক খাতসহ বাস্তব অর্থনীতির নানা ক্ষেত্রে।

তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের মোট কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা পেটেন্টের প্রায় ৬০ শতাংশ চীনের দখলে। চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে দেশটির কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মূল শিল্পের আকার ১.২ ট্রিলিয়ন ইউয়ান অতিক্রম করেছে এবং দেশটিতে এখন এআই প্রতিষ্ঠান আছে ৬ হাজার ২০০’র বেশি।

ওপেন-সোর্স ইকোসিস্টেম যত সমৃদ্ধ হবে ততই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বাস্তব অর্থনীতির প্রতিটি স্তরে আরও গভীরভাবে প্রবেশ করবে। সেই সঙ্গে এটি নতুন দিনের শিল্পায়ন, ডিজিটাল অর্থনীতির উচ্চমানের উন্নয়ন এবং বৈশ্বিক প্রযুক্তিগত প্রতিযোগিতায় চীনের নেতৃত্বকে করবে আরও শক্তিশালী।

সূত্র:শিশির-ফয়সল-আকাশ,চায়না মিডিয়া গ্রুপ।

AHA
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত