যথাযোগ্য মর্যাদায় পবিত্র আশুরা পলিত হচ্ছে আজ

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০৯:০১ এএম

আজ পবিত্র আশুরা। মুসলিম উম্মাহর জন্য (১০ মহররম ১৪৪৮ হিজরি) অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও শোকাবহ এই দিনটি রাজধানীসহ সারাদেশে যথাযোগ্য ধর্মীয় মর্যাদা, নফল রোজা, বিশেষ নামাজ, জিকির-আসকার ও দান-খয়রাতের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে। সত্য ও ন্যায়ের পক্ষে অটল থেকে ৬১ হিজরির এই দিনে ইরাকের কারবালার প্রান্তরে স্বৈরাচারী ইয়াজিদ বাহিনীর হাতে নির্মমভাবে শাহাদাত বরণ করেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রিয় দৌহিত্র হজরত ইমাম হুসাইন (রা.) এবং তাঁর অর্ধশতাধিক সফরসঙ্গী।

ইসলামের ইতিহাসে এই দিনটির গুরুত্ব কেবল কারবালা ট্র্যাজেডিতেই সীমাবদ্ধ নয়। এদিনেই মহান আল্লাহ তা’آলা হজরত আদম (আ.)-কে দুনিয়াতে পাঠিয়েছেন, আগুনের কুণ্ডলী থেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরেছেন হজরত ইব্রাহিম (আ.), নীল নদে ডুবে মৃত্যু হয়েছে অত্যাচারী ফেরাউনের এবং মাছের পেট থেকে অলৌকিকভাবে মুক্ত হন হজরত ইউনূস (আ.)। এমনকি এই আশুরার দিনেই মহাপ্রলয় বা কেয়ামত সংঘটিত হবে বলে ইসলামি ইতিহাসে বর্ণিত আছে।

পবিত্র আশুরা উপলক্ষে পৃথক বাণী দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাণীতে তাঁরা পবিত্র আশুরার মহান শিক্ষা ও ত্যাগকে বুকে ধারণ করে একটি শান্তিপূর্ণ, মানবিক, ন্যায়ভিত্তিক ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে সবার প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান। দিবসটি উপলক্ষে আজ সরকারি ছুটি। সরকারি ও বেসরকারি টেলিভিশন এবং বেতার মাধ্যমগুলো দিনটির তাৎপর্য তুলে ধরে বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার করছে।

আশুরা উপলক্ষে শিয়া সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী তাজিয়া মিছিল ও শোক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদ জানান, নির্বিঘ্ন নিরাপত্তা নিশ্চিতে মিছিলে ১২ ফুটের বেশি উঁচু নিশান ব্যবহার, ধারালো ধাতব বস্তু, ছুরি-চাকু, তরবারি, লাঠি এবং আতশবাজি বহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, উচ্চশব্দের পিএ সিস্টেম বা ঢাক-ঢোল বাজানো থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আজ ২৬ জুন সকাল ১০টা থেকে তাজিয়া মিছিলের রুটগুলোতে তীব্র যানজট এড়াতে ট্রাফিক ডাইভারশন মেনে বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের জন্য সাধারণ চালকদের অনুরোধ জানিয়েছে ডিএমপি।

দিবসটি উপলক্ষে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগেও বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ বারান্দায় ‘আশুরার গুরুত্ব ও তাৎপর্য’ শীর্ষক বিশেষ আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক আ. ছালাম খান। প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা রেসিয়েনসিয়াল মডেল কলেজ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের খতিব আলহাজ মাওলানা মো. মহিউদ্দিন এবং বিশেষ আলোচক ছিলেন ড. মোহাম্মদ হারুনুর রশীদ। বক্তারা বলেন, কারবালার ঘটনা কেবল একটি ট্র্যাজেডি নয়, এটি অন্যায় ও জুলুমের বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিরোধের এক চিরন্তন ও উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

SN
আরও পড়ুন