ইরানের হুমকিতে খাবারের ট্রাকে করে পালালেন ট্রাম্প

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০২৬, ১২:১৮ পিএম

ইরানের হুমকির কারণে গত মাসে তুরস্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে গোপনে একটি সামরিক উড়োজাহাজে সরিয়ে নেওয়া হয়েছিল। অথচ সে সময় হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ট্রাম্প এয়ার ফোর্স ওয়ানেই অবস্থান করছেন।

সোমবার এ তথ্য প্রকাশ করেছে দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।

ন্যাটো সম্মেলনে যোগ দিতে ট্রাম্প কাতারের দেওয়া নতুন করে সংস্কার করা একটি উড়োজাহাজ নিয়ে আঙ্কারায় গিয়েছিলেন। তবে তুরস্ক ছাড়ার সময় তিনি অপ্রত্যাশিতভাবে পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করেন। বিষয়টি নতুন উড়োজাহাজটির নিরাপত্তা নিয়েও প্রশ্নের জন্ম দেয়।

ন্যাটো সম্মেলনে অংশ নিতে ট্রাম্পের এই সফরই ছিল কাতারের দেওয়া নতুন উড়োজাহাজটির প্রথম আন্তর্জাতিক যাত্রা। একই সময়ে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনাও বাড়ছিল। তুরস্কের সঙ্গে ইরানের সীমান্ত থাকায় প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা নিয়ে বাড়তি সতর্কতা নেওয়া হয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আঙ্কারায় ক্যামেরার সামনে ট্রাম্প পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানে ওঠার পর গোপনে তাকে বিমানবন্দরের একটি ক্যাটারিং ট্রাকে করে অন্য একটি ছোট উড়োজাহাজের কাছে নিয়ে যাওয়া হয়। দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের একজন কর্মকর্তা এবং প্রেসিডেন্টের সফর সম্পর্কে অবগত আরেক ব্যক্তির বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ওই উড়োজাহাজটি ছিল মার্কিন সামরিক বাহিনীর C-32A।

পরে C-32A উড়োজাহাজটি ব্রিটেনের উদ্দেশে উড়ে যায় এবং রাত প্রায় ১০টা ২০ মিনিটে সেখানে পৌঁছায়। পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ান ও গণমাধ্যমকর্মীরাও কয়েক মিনিট পর একই ঘাঁটিতে পৌঁছান।

এর আগে ট্রাম্প তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Truth Social-এ জানিয়েছিলেন, আঙ্কারা থেকে ব্রিটেনের রয়্যাল এয়ার ফোর্স (RAF) মিলডেনহল ঘাঁটিতে যাওয়ার জন্য তিনি পুরোনো নীল রঙের এয়ার ফোর্স ওয়ান ব্যবহার করবেন—‘পুরোনো দিনের কথা মনে করার জন্য’। একই সময়ে নতুন উড়োজাহাজটিও ওই ঘাঁটিতে যাওয়ার কথা ছিল, যাতে সেখানে অবস্থানরত মার্কিন সেনাসদস্যরা সেটি ঘুরে দেখতে পারেন।

তবে তৃতীয় একটি উড়োজাহাজে প্রেসিডেন্টের গোপন যাত্রার বিষয়টি প্রকাশ্যে আসার পর হোয়াইট হাউসের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে যোগাযোগ পরিচালক স্টিভ চিয়াং একটি বিবৃতি দেন।

তিনি বলেন, কাতারের দেওয়া উড়োজাহাজটিতে প্রেসিডেন্ট ও তার কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য উচ্চপর্যায়ের নিরাপত্তা ব্যবস্থা সংযোজন করা হয়েছে।

চিয়াং আরও বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট সম্প্রতি বলেছেন, আমেরিকার অনেক শত্রু রয়েছে, যারা তার ওপর নজর রাখছে। এসব হুমকি মোকাবিলায় আমাদের হাতে থাকা সব ধরনের ব্যবস্থা আমরা ব্যবহার করছি।’

দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট–এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস একই বিবৃতি দিয়েছে।

এদিকে, গোপন সামরিক ফ্লাইটের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলেও মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।

সূত্র: এনডিটিভি

Maz
আরও পড়ুন