১০ মহররমের বিশেষ মর্যাদার কারণ

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৬, ০২:১৩ পিএম

ইসলামে হিজরি বর্ষের প্রথম মাস মহররম এবং এর ১০ম তারিখ তথা 'আশুরা' অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও মর্যাদাপূর্ণ একটি দিন। রাসুলুল্লাহ (সা.) নিজে এই দিনে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে রোজা রেখেছেন এবং সাহাবিদেরও রোজা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন- আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে রমজান মাস এবং আশুরার দিনের রোজার মতো অন্য কোনো দিনের রোজাকে এত বেশি গুরুত্ব দিয়ে রাখতে দেখিনি (সহিহ বুখারি: ২০০৬)।

এই দিনের রোজার ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, আশুরার রোজার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এর কারণে আল্লাহ তাআলা পূর্ববর্তী এক বছরের গুনাহ মাফ করে দেবেন (সহিহ মুসলিম: ২৬১৭)।

ইসলামি শরিয়ত ও বিশুদ্ধ হাদিসের আলোকে ১০ মহররমের এই বিশেষ মর্যাদার মূল কারণ হলো- এই দিনে মহান আল্লাহ তাআলা হজরত মুসা (আ.) ও তাঁর সম্প্রদায় বনি ইসরাইলকে অত্যাচারী ফেরাউনের কবল থেকে অলৌকিকভাবে মুক্তি দিয়েছিলেন। এই কৃতজ্ঞতাস্বরূপ হজরত মুসা (আ.) নিজে এই দিনে রোজা পালন করতেন।

হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত অন্য একটি হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পর সেখানকার ইহুদিদের আশুরার দিনে রোজা রাখতে দেখেন। এর কারণ জিজ্ঞেস করা হলে তারা জানায়, এটি এমন একটি উত্তম দিন- যেদিন আল্লাহ তাআলা মুসা (আ.) ও বনি ইসরাইলকে ফেরাউনের অত্যাচার থেকে মুক্তি দিয়েছিলেন; তাই মুসা (আ.) শুকরিয়াস্বরূপ এই দিনে রোজা রাখতেন। তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, "আমি তোমাদের চেয়েও মুসার (আ.) অধিক নিকটবর্তী।" এরপর তিনি নিজে সেই দিন রোজা রাখেন এবং উম্মতকেও রোজা রাখার নির্দেশ দেন (সহিহ মুসলিম: ২৫৪৮)।

যদিও লোকমুখে প্রচলিত কিছু বর্ণনায় বলা হয়- এই দিনে হজরত আদম (আ.)-কে ক্ষমা করা হয়েছিল, হজরত নুহ (আ.)-এর নৌকা নিরাপদে ভূমিতে অবতরণ করেছিল কিংবা আল্লাহর খলিল হজরত ইবরাহিম (আ.) জন্মগ্রহণ করেছিলেন; তবে ইসলামি গবেষকদের মতে, এগুলোর কোনোটিই নির্ভরযোগ্য বা বিশুদ্ধ সূত্রে প্রমাণিত নয়।

এছাড়া, রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর ওফাতের প্রায় পঞ্চাশ বছর পর হিজরি ৬১ সনের ১০ মহররম কারবালার প্রান্তরে তাঁর প্রিয় দৌহিত্র হজরত হোসাইন (রা.) অত্যন্ত মর্মান্তিকভাবে শাহাদাত বরণ করেন। মুসলিম উম্মাহ প্রতিবছর এই দিনে হজরত হোসাইন (রা.)-এর মহান ত্যাগ ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আদর্শকে বিশেষভাবে স্মরণ করে। তবে ঐতিহাসিকভাবে কারবালার এই শোকাবহ ঘটনা ১০ মহররমের মূল মর্যাদা কিংবা এই দিনে রোজা রাখার আসল কারণ নয়; কারণ ইসলামের ইতিহাসে আশুরার দিনের মর্যাদা ও রোজার বিধান কারবালার ঘটনার বহু আগে থেকেই নির্ধারিত ছিল।

SN
আরও পড়ুন