বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার নকআউট পর্বে মাঠের লড়াই শুরু হওয়ার আগেই আলোচনার কেন্দ্রে উঠে এসেছেন ম্যাচ অফিসিয়াল। আর্জেন্টিনা ও কেপ ভার্দের রাউন্ড অব ৩২-এর ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছেন কানাডিয়ান রেফারি ড্রিউ ফিশার। শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ম্যাচে তার প্রতিটি বাঁশি থাকবে বাড়তি নজরে। কারণ, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি বিতর্কও কম নয় এই রেফারির।
ক্যালগারিতে জন্ম নেওয়া ফিশার উত্তর আমেরিকার ফুটবলে বহুদিনের পরিচিত মুখ। মেজর লিগ সকারে (এমএলএস) দুই শতাধিক ম্যাচ পরিচালনার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার। ২০১৫ সাল থেকে ফিফার আন্তর্জাতিক রেফারির তালিকায় জায়গা পাওয়া এই কর্মকর্তা নিয়মিত দায়িত্ব পালন করে আসছেন কনকাকাফ ও আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে।
লিওনেল মেসির সঙ্গেও তার পরিচয় নতুন নয়। ইন্টার মায়ামি যখন ভ্যাঙ্কুভার হোয়াইটক্যাপসকে ৩-২ গোলে হারিয়ে নিজেদের প্রথম লিগ শিরোপা জিতে নেয়, সেই ম্যাচের রেফারিও ছিলেন ফিশার। ফলে মেসি ও আর্জেন্টিনার কয়েকজন খেলোয়াড়ের কাছে তিনি পরিচিত এক মুখ।
তবে ফিশারের নাম উচ্চারিত হলেই অনেকের মনে ফিরে আসে ২০২৩ সালের কনকাকাফ নেশনস লিগের সেই বিতর্কিত ম্যাচ। মেক্সিকো ও হন্ডুরাসের কোয়ার্টার ফাইনালে তিনি ছিলেন ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি। ম্যাচ শেষে অভিযোগ ওঠে, ভিএআর বুথ থেকেই তিনি ম্যাচের গতিপথ বদলে দেওয়ার মতো সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছিলেন।
মূল রেফারি ইভান বার্টন পরে জানান, ভিএআর থেকে অতিরিক্ত সময় আরও বাড়ানোর পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তিনি ৯ মিনিট যোগ করলেও সময় শেষ হওয়ার পরও আরও দুই মিনিট খেলা চালিয়ে যেতে বলা হয়। সেই বাড়তি সময়েই সমতাসূচক গোল করে মেক্সিকো ম্যাচকে টাইব্রেকারে নিয়ে যায় এবং শেষ পর্যন্ত জয় নিশ্চিত করে। ঘটনাটি তখন ব্যাপক বিতর্ক সৃষ্টি করলেও কয়েক দিনের মধ্যেই ফিশার আবারও বড় ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পান।
আর্জেন্টিনার সঙ্গে অবশ্য তার দেখা হয়েছে মাত্র একবার। ২০২৪ সালের কোপা আমেরিকার আগে ফিলাডেলফিয়ায় অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে ইকুয়েডরকে ১-০ গোলে হারিয়েছিল আলবিসেলেস্তেরা। সেই ম্যাচের দায়িত্বেও ছিলেন ফিশার। জয়সূচক গোলটি করেছিলেন অ্যাঞ্জেল দি মারিয়া।
চলমান বিশ্বকাপে এটি তার প্রথম আসর মাঠের প্রধান রেফারি হিসেবে। ইতোমধ্যে ইরাক-ফ্রান্স এবং ক্রোয়েশিয়া-ঘানা ম্যাচ পরিচালনা করেছেন তিনি। দুটি ম্যাচেই জয় পেয়েছে ইউরোপীয় দল।
বিশ্বকাপের আগে ক্লাব বিশ্বকাপেও দুটি ম্যাচে দায়িত্ব পালন করেছিলেন এই কানাডিয়ান। প্যারিস সেন্ট জার্মেইর বিপক্ষে বোটাফোগোর স্মরণীয় জয় এবং উইদাদ এসির বিপক্ষে আল আইনের ম্যাচেও তিনিই ছিলেন প্রধান রেফারি।
এবার সেই ফিশারের হাতেই উঠছে আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দের গুরুত্বপূর্ণ নকআউট ম্যাচের বাঁশি। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এই পরীক্ষায় খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স যেমন আলোচনায় থাকবে, তেমনি সমানভাবে নজর থাকবে ম্যাচ পরিচালনায়ও।
বিমানবন্দরে মেসিকে মেটাল ডিটেক্টরে তল্লাশি, ভিডিও ভাইরাল
রোনালদো জ্বরে কাঁপছে টরন্টো
‘আমরা আসছি’, ব্রাজিলকে নরওয়ের হুঁশিয়ারি