অপরিকল্পিতভাবে ভরাট করা জলাভূমি ও নরম মাটির এলাকাগুলোতে শক্তিশালী ভূমিকম্পে ব্যাপক স্থাপনা ধসে যেতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে বড় ধরনের ভূমিকম্প হলে ঢাকার বিস্তীর্ণ এলাকার বাসিন্দারা গুরুতর ঝুঁকির মুখে পড়বেন। কারণ, এই নগরীর বড় অংশই ঝুঁকিপূর্ণ ও মাটির তরলীকরণপ্রবণ ভূমির ওপর গড়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, আলগা ও ভরাট করা মাটি ভূমিকম্পের কম্পনকে আরও তীব্র করে তোলে। ফলে এসব এলাকায় ভবনের ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়তে পারে এবং ভবন হেলে যাওয়া বা ধসে পড়ার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
লিকুইফ্যাকশন পটেনশিয়াল ইনডেক্স (এলপিআই) ব্যবহার করে বুয়েট ঢাকার ভূমিকে চার রঙের অঞ্চলে ভাগ করেছে। তার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হচ্ছে লাল অঞ্চল।
লাল অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত এলাকাগুলোর মধ্যে রয়েছে হজরতপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, তেঘরিয়া, কোন্ডা, এনায়েতনগর, কাশীপুর, কালাগাছিয়া, নারায়ণগঞ্জ পৌরসভা, বন্দর, মোগরাপাড়া, নারায়ণগঞ্জ সদর, বক্তাবলী, মোহাম্মদপুর ও ধানমন্ডির কিছু অংশ, নিউমার্কেট, লালবাগ, মদনপুর, দুমনি, বাড্ডা, পাথালিয়ার কিছু অংশ, আশুলিয়া, কাটাবল্লী এবং দারুস সালাম।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঢাকার মাত্র ৩৫ শতাংশ এলাকা শক্ত লাল মাটির ওপর অবস্থিত। বাকি অংশ জলাভূমি, বন্যাপ্রবণ এলাকা, পুরোনো খাল এবং নিচু জমি নিয়ে গঠিত। ফলে এসব এলাকায় ভূমিকম্পের প্রভাব তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
ভবন নির্মাণে মাটির ধরন অনুযায়ী নকশা প্রণয়ন এবং বাংলাদেশ জাতীয় নির্মাণবিধি (বিএনবিসি) কঠোরভাবে অনুসরণ করা হলে সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। তবে এখনো রাজধানীর ভূমিকম্প ঝুঁকির মানচিত্র নগর পরিকল্পনায় পুরোপুরি অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
ভূমিকম্পে ঢাকার ভবন ধসের চেয়ে বড় আতঙ্ক ‘দেবে’ যাওয়া