ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে রাতভর ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের ব্যাপক হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী। এই হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং প্রায় ৯০ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো এটিকে রাজধানীর ওপর চালানো ‘সবচেয়ে বড় হামলা’ বলে উল্লেখ করেছেন।
হামলার পর শুক্রবার (৩ জুলাই) শোক দিবস ঘোষণা করেছেন ক্লিচকো। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর মধ্যে একটি অ্যাম্বুলেন্স স্টেশনও রয়েছে। হামলায় শিশুদেরও উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় হতাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন কিয়েভ সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো।
রাতভর চলা এই হামলায় কিয়েভের বিস্তীর্ণ এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন আঘাত হানে। একাধিক আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং কয়েকটি এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। দক্ষিণ-পূর্ব কিয়েভের একটি বহুতল আবাসিক ভবনের বড় একটি অংশ ধসে পড়ে। উদ্ধারকারীরা সেখানে ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়াদের খোঁজ চালাচ্ছেন।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি আগেই সতর্ক করেছিলেন, রাশিয়া বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তার সেই সতর্কবার্তার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শুরু হয় টানা ১১ ঘণ্টাব্যাপী এই হামলা।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া এক রাতে ৭৪টি ক্ষেপণাস্ত্র এবং ৪৯৬টি ড্রোন ছুড়েছে, যার মূল লক্ষ্য ছিল কিয়েভ। আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ হামলা প্রতিহত করলেও ২৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ১২টি ড্রোন ৩৩টি স্থানে আঘাত হানে।
জেলেনস্কি যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদনের লাইসেন্স দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রি সিবিহা মিত্র দেশগুলোর প্রতি আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহ এবং রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, তারা ইউক্রেনের সামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। মস্কোর দাবি, রাশিয়ার বেসামরিক অবকাঠামোর ওপর ইউক্রেনের হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
তবে ইউক্রেন এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, রাশিয়া ইচ্ছাকৃতভাবে আবাসিক এলাকা ও বেসামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে। কিয়েভের ভাষ্য, আগ্রাসন চালানো দেশ এবং আত্মরক্ষায় লড়াই করা দেশের কর্মকাণ্ডকে এক পাল্লায় বিচার করা করা যায় না। সূত্র: বিবিসি
কিয়েভে ভয়াবহ রুশ হামলা, নিহত অন্তত ৮
আফগান সীমান্ত উত্তেজনায় ড্রোন প্রতিহতের দাবি পাকিস্তানের
ভারতের সীমান্তে চীনা সেনাবাহিনীর প্রবেশ নিয়ে যা জানা গেলো