পেনাল্টি মিসের হতাশা নাকি জয়ের স্বস্তি, কেন কেঁদেছিলেন মেসি

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৬, ০৯:১৭ এএম

মিশরের বিপক্ষে পেনাল্টি মিসের হতাশা এবং পরবর্তীতে অবিশ্বাস্য জয়ের পর আবেগে আপ্লুত হয়ে পড়েন লিওনেল মেসি।

ম্যাচ শেষে নিজের অশ্রুসিক্ত প্রতিক্রিয়ার ব্যাখ্যা দিয়ে আর্জেন্টাইন অধিনায়ক জানান, এই কান্নার পেছনে একদিকে ছিল পেনাল্টি হাতছাড়া করার গ্লানি এবং অন্যদিকে ম্যাচ জেতার পর এক বুক ‘স্বস্তি’।

নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপে খেলতে আসা মেসির আর্জেন্টিনা এই ম্যাচে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে যাওয়ার চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল। ম্যাচের শুরুতে ১৫ মিনিটে ইয়াসের ইব্রাহিমের হেডে পিছিয়ে পড়ার পর, ৬৭ মিনিটে এক দুর্দান্ত কাউন্টার অ্যাটাক থেকে মিশরের ব্যবধান দ্বিগুণ করেন মুস্তাফা জিকো।

এর আগে ম্যাচের ২১ মিনিটে নিকলাস তালিয়াফিকোকে বক্সের ভেতর হাইসেম হাসা ফাউল করলে পেনাল্টি পায় আলবিসেলেস্তেরা। কিন্তু মেসির নেওয়া শটটি সহজেই রুখে দেন মিশরীয় গোলরক্ষক মোস্তফা শোবেইর। যা মাঠেই তাঁর মুখে চিন্তার ভাঁজ ফেলে দিয়েছিল।

তবে মার্সিডিজ-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা দমে যায়নি। ক্রিশ্চিয়ান রোমেরোর চমৎকার হেডে ব্যবধান কমানোর পর মেসি ও এনজো ফার্নান্দেজের গোলে মাত্র ১৩ মিনিটের এক অতিমানবীয় প্রত্যাবর্তনে জয় ছিনিয়ে নেয় লিওনেল স্কালোনির দল। এই জয়ের ফলে কোয়ার্টার ফাইনালে পৌঁছে গেছে আর্জেন্টিনা, যেখানে তাদের মুখোমুখি হবে সুইজারল্যান্ড।

ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে মেসি তাঁর অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, "২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর ঘুরে দাঁড়ানো মোটেও সহজ ছিল না। কিন্তু আমাদের এই দলটা কখনো হাল ছাড়ে না, শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যায়। ভাগ্য ভালো যে আমরা কুতির (রোমেরো) গোলটা দ্রুত পেয়ে গিয়েছিলাম, যার ফলে নির্ধারিত ৯০ মিনিটেই ম্যাচটি জেতা সম্ভব হয়েছে। আজ দল যা করেছে তা সত্যিই অবিশ্বাস্য।"

পেনাল্টি মিসের আক্ষেপ নিয়ে মেসি আরও যোগ করেন, "পেনাল্টিটা মিস করায় আমি ভীষণ হতাশ ছিলাম। ওই সময়ে গোলটা করতে পারলে ম্যাচের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হতো। আমাদের বেশ কিছু নিশ্চিত সুযোগ মিশরীয় গোলরক্ষক দারুণভাবে নস্যাৎ করে দিয়েছেন। তবে সব বাধা পেরিয়ে দলের এই জয়ে অবদান রাখতে পারাটা আমার জন্য অত্যন্ত বিশেষ কিছু।"

এই ম্যাচে গোল করার মাধ্যমে চলতি বিশ্বকাপে মেসির গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে আটে, যা কিলিয়ান এমবাপে ও আর্লিং হালান্ডের চেয়ে একটি বেশি। পাশাপাশি ছয়টি বিশ্বকাপ মিলিয়ে ৩১ ম্যাচে মেসির মোট গোলসংখ্যা এখন ২১টি, যা ১৯ ম্যাচে ১৯ গোল করা ফরাসি তারকা এমবাপের চেয়ে দুটি বেশি।

YA
আরও পড়ুন