বিশ্বকাপে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হস্তক্ষেপে ফিফা কর্তৃক ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ডের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিতর্কিত ঘটনার পর এবার নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে আর্জেন্টিনা ও মিশরের ম্যাচ নিয়ে।
ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে থেকেও নাটকীয়ভাবে ৩-২ গোলে ম্যাচটি জিতেছে। তবে ম্যাচে মিশরের একটি গোল ভিএআর-এর মাধ্যমে বাতিল করা এবং পরবর্তীতে আর্জেন্টিনার পক্ষে যাওয়া একের পর এক সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল বিশ্বে তোলপাড় চলছে।
ম্যাচের একপর্যায়ে মিশর এগিয়ে থাকার সময় ভিএআর-এর হস্তক্ষেপে তাদের একটি নিশ্চিত গোল বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে দেখানো হয়, আক্রমণের বেশ কিছুক্ষণ আগে মিশরের মারওয়ান আতিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্টিনেজের জার্সি টেনেছিলেন ও পায়ে আঘাত করেছিলেন। অথচ মাঠের রেফারি তাৎক্ষণিকভাবে এটিকে ফাউল হিসেবে দেখেননি।
মিশরের প্রধান কোচ হোসাম হাসান ম্যাচ শেষে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "তারা হয়তো বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের এবং লিওনেল মেসিকে টুর্নামেন্টে টিকিয়ে রাখতে চেয়েছিল। ফুটবলে কখনো কখনো মাঠের কৌশলের বাইরেও বাহ্যিক কিছু প্রভাব কাজ করে।"
পর্তুগীজ ফুটবল আইকন হোসে মরিনহোও এই ম্যাচটিকে সরাসরি "দিনের আলোয় ডাকাতি" বলে উল্লেখ করেছেন।
ফুটবল বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, এই টুর্নামেন্টে ক্রীড়া ও রাজনীতির লাইন আরও বেশি অস্পষ্ট হয়ে উঠেছে। সাংহাইয়ের এমলিয়ন বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক সাইমন চ্যাডউইক আল জাজিরাকে বলেন, "বালোগুন কাণ্ডের পর কোন সিদ্ধান্তটি বৈধ আর কোনটি নয়, তা বিশ্বাস করা কঠিন। তাছাড়া যদি ট্রাম্প প্রশাসন এই টুর্নামেন্টের ওপর কড়া নজরদারি রাখে, তবে মনে রাখা ভালো— আর্জেন্টিনার ডানপন্থী পপুলিস্ট প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই কিন্তু ডোনাল্ড ট্রাম্পের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং ট্রাম্পের 'প্রিয় প্রেসিডেন্ট'।"
এর পাশাপাশি চ্যাডউইক আরও ইঙ্গিত করেন যে, ম্যাচের আগের দিন মিশরের কোচ হোসাম হাসান কর্তৃক অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা ও ফিলিস্তিনের জনগণের পক্ষে আবেগঘন বক্তব্য দেওয়ার কারণে হয়তো কিছু অফিশিয়ালের মধ্যে এক ধরণের প্রচ্ছন্ন পক্ষপাতমূলক আচরণ তৈরি হয়ে থাকতে পারে।
ফুটবল বিশ্লেষক আলী আল গারণী অবশ্য কিছুটা ভিন্ন মত পোষণ করে বলেন, "ডাকাতি শব্দটা হয়তো বেশি বড় হয়ে যায়। তবে মাঠের রেফারি ও ভিএআর-এর সিদ্ধান্তগুলো যেকোনো দিকেই যেতে পারত, যার সবকটির সুবিধা পেয়েছে আর্জেন্টিনা। তবে প্রশ্ন হলো— এই একই ঘটনা যদি আর্জেন্টিনার ক্ষেত্রে ঘটত, তবে কি গোল বাতিল হতো? সম্ভবত না। মিশরের আক্ষেপ আরও বাড়িয়েছে কারণ আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে মোহাম্মদ সালাহকে ফাউল করা হলেও ভিএআর তখন কোনো হস্তক্ষেপ করেনি।"
অধ্যাপক চ্যাডউইক ম্যাচ ফিক্সিং বা পাতানো ম্যাচের গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেও স্বীকার করেছেন যে, "এতে কোনো সন্দেহ নেই যে মেসি এই টুর্নামেন্টের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ, যাকে ছাড়া টুর্নামেন্ট এগিয়ে নেওয়া আয়োজকদের জন্য আর্থিক ও জনপ্রিয়তার দিক থেকে অসম্ভব।"
তিনি মনে করেন, ভিএআর-এর স্বচ্ছতার জন্য রেফারি ও কর্মকর্তাদের কথোপকথন দর্শকদের শোনার ব্যবস্থা করা উচিত, যাতে এই প্রযুক্তি সন্দেহ দূর করার বদলে নতুন কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না করে। সূত্র: আল জাজিরা
কোয়ার্টার ফাইনালে কে কার মুখোমুখি, কবে, কখন খেলা
পেনাল্টি মিসের হতাশা নাকি জয়ের স্বস্তি, কেন কেঁদেছিলেন মেসি
আমাদের সাথে প্রতারণা করা হয়েছে: মিসরের কোচ
রেফারিকে কেন ‘জালিম’ বললেন মিসরের ফুটবলার