যেকোনো মার্কিন হামলার জবাবে হরমুজ বন্ধ, দ্বিগুণ আঘাত হানা হবে

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৩:১৯ এএম

‘মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কোনো ধরনের হামলা চালালে এবার দ্বিগুণ শক্তিতে পাল্টা আঘাত হানা হবে’ বলে জানিয়েছে ইরান। একই সাথে কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

বুধবার (৮ জুলাই) প্রেস টিভিকে এ তথ্য জানিয়েছে ইরানের একটি বিশ্বস্ত নিরাপত্তা সূত্র। 

গত ৪৮ ঘণ্টার ঘটনাবলীতে তেহরান নিজের সামরিক ও কৌশলগত নীতিতে বড় পরিবর্তন এনে এই নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তেহরানের নতুন যুদ্ধকৌশল অনুযায়ী, ইরানের মাটি বা স্বার্থে আঘাত করা হলে তার দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। মার্কিন বা তাদের মিত্রদের যেকোনো হামলার পর ইরান সাথে সাথে দুটি বড় পদক্ষেপ নেবে। 

প্রথমত, হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

দ্বিতীয়ত, শত্রুপক্ষের ওপর ‘একটির বদলে দুটি’ অনুপাতে পাল্টা হামলা চালানো হবে। অর্থাৎ, ইরানের একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করা হলে শত্রুর অন্তত দুটি লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা আঘাত করা হবে।

বুধবার (৮ জুলাই) ইরানের ইংরেজি চ্যানেল প্রেসটিভি জানিয়েছে, নিরাপত্তা সূত্রটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক হুমকির কড়া জবাব দিয়েছে।

জবাবে বলা হয়েছে, ‘যেকোনো হুমকিরই শক্তিশালী জবাব দেওয়া হবে। ইরান এক্ষেত্রে আমেরিকা আর তাদের আঞ্চলিক দোসরদের আলাদা করে দেখবে না। এসব হুমকি দিয়ে ট্রাম্প কিছুই পাবেন না, উল্টো হরমুজ প্রণালি আর চূড়ান্ত চুক্তি সংক্রান্ত আলোচনা—দুটোই হারাবেন। এখন সিদ্ধান্ত ট্রাম্পেরই।’

বুধবার ভোরে ইরানের দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় মার্কিন সামরিক বাহিনী সম্পূর্ণ অবৈধ ও উস্কানিমূলকভাবে নতুন করে হামলা চালালে পারস্য উপসাগরে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। 

মার্কিন এই সামরিক হামলা দক্ষিণ ইরানের হরমুজগান প্রদেশ ও মাহশাহরের বেশ কিছু উপকূলীয় ঘাঁটি ও বেসামরিক স্টেশনে আঘাত হানে। এর মধ্য দিয়ে সরাসরি যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করা হয়েছে।

এর জবাবে তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নিয়েছে ইরানের ইসলামি রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। 

তারা বাহরাইন ও কুয়েতে থাকা মার্কিন ৮৫টি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে সফল হামলা চালিয়েছে। 

আইআরজিসি জানায়, বাহরাইনে অবস্থিত মার্কিন পঞ্চম নৌবহরের এলাকা সালমান বন্দর এবং কুয়েতের আলি আল সালেম বিমান ঘাঁটির নানা স্থাপনায় তাদের আঘাত নিখুঁতভাবে লেগেছে। 

এই অভিযানে বাধা দিতে আসা আমেরিকার একটি এমকিউ-৯ ড্রোনকেও গুলি করে নামানো হয়েছে।

এদিকে ইরানের খাতাম আল-আম্বিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স এক বিবৃতিতে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

হুঁশিয়ারিতে বলা হয়েছে, ‘মার্কিন আগ্রাসী বাহিনীকে’যে পক্ষই সাহায্য করবে, তাকেই ইরানি সশস্ত্র বাহিনীর বৈধ লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করা হবে। 

খাতাম আল-আম্বিয়া আরও জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ ও তেলবাহী ট্যাঙ্কারের জন্য একমাত্র নিরাপদ পথ হলো ইরানের নির্ধারিত পথ। এই প্রণালি ব্যবস্থাপনায় অন্য কারও হস্তক্ষেপ তেহরান মেনে নেবে না। 

HN
আরও পড়ুন