তরুণদের মানবসম্পদে রূপান্তরই সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি: রাষ্ট্রপতি

আপডেট : ১১ জুলাই ২০২৬, ১১:১৩ এএম

তরুণ প্রজন্মকে দেশের ভবিষ্যৎ ও উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বলেছেন, রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো নতুন প্রজন্মের মৌলিক চাহিদা পূরণ এবং তাদের ব্যক্তিগত ও সামষ্টিক উন্নয়নের সমান সুযোগ নিশ্চিত করা।

তিনি বলেন, দেশের বিপুল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা গেলে সমৃদ্ধ বাংলাদেশের ভিত্তি আরও সুদৃঢ় হবে।

শনিবার (১১ জুলাই) বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গতকাল শুক্রবার দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস পালিত হচ্ছে। বিশ্বের অন্যতম জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মানুষই তরুণ। এই বিপুল জনশক্তিকে উৎপাদনশীল মানবসম্পদে রূপান্তর করা গেলে একদিকে যেমন তরুণদের প্রত্যাশা পূরণ হবে, অন্যদিকে দেশের টেকসই উন্নয়নও ত্বরান্বিত হবে।

তিনি বলেন, এবারের প্রতিপাদ্য-‘তারুণ্যের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’-বর্তমান বাস্তবতায় সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ।

রাষ্ট্রপতি জানান, সরকার যুবসমাজকে সুশিক্ষিত, দক্ষ, আত্মনির্ভরশীল ও নৈতিক মূল্যবোধসম্পন্ন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক, কর্মমুখী ও উৎপাদনমুখী করতে বিভিন্ন পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি তরুণদের সৃজনশীলতা, নেতৃত্বের বিকাশ এবং ডিজিটাল প্রযুক্তি ও উদ্ভাবনে দক্ষ করে তুলতে কারিগরি ও কর্মমুখী শিক্ষা-প্রশিক্ষণকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, মাদক, বাল্যবিবাহ, সহিংসতাসহ বিভিন্ন সামাজিক অবক্ষয় রোধে সচেতনতামূলক কার্যক্রম, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির সম্প্রসারণ এবং আইনের কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব পদক্ষেপ নতুন প্রজন্মের জীবনমান উন্নয়ন, সামাজিক স্থিতিশীলতা এবং টেকসই উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, একটি সুস্থ, কর্মক্ষম ও উৎপাদনশীল জাতি গড়ে তুলতে নাগরিক সুস্বাস্থ্য এবং পরিকল্পিত পরিবার ব্যবস্থা অপরিহার্য। এ লক্ষ্যে সরকার স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। বিশেষ করে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য, প্রজনন স্বাস্থ্য এবং বয়ঃসন্ধিকালীন স্বাস্থ্যসেবাকে আরও কার্যকর ও সবার জন্য সহজলভ্য করতে সংশ্লিষ্টদের সমন্বিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

তারুণ্যের বিকাশে সরকারের পাশাপাশি পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি সংস্থা এবং সমাজের সব অংশীজনের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিদ্যমান স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোর সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে মানসম্মত পরিবার পরিকল্পনা, মা ও শিশুস্বাস্থ্য এবং কৈশোরকালীন স্বাস্থ্যসেবা প্রদান অব্যাহত রাখতে হবে।

বিশ্ব জনসংখ্যা দিবস-২০২৬ উপলক্ষে গৃহীত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।

NM/YA
আরও পড়ুন