ইরানকে ইসলামাবাদের হুঁশিয়ারি

সৌদিতে হামলা মানেই পাকিস্তানে হামলা 

আপডেট : ১৯ জুলাই ২০২৬, ০২:০৫ এএম

সৌদি আরবের ওপর ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সাম্প্রতিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলাকে নিজেদের ওপর আক্রমণ হিসেবে দেখার ঘোষণা দিয়েছে পাকিস্তান। এই ধরনের উস্কানিমূলক তৎপরতাকে ইসলামাবাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমা হিসেবে উল্লেখ করে ইরানকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে।

রয়টার্সের তথ্যমতে, সৌদি আরবে হুতিদের এই হামলার পর ইসলামাবাদের উদ্বেগ ও ক্ষোভ চরম পর্যায়ে পৌঁছায়। এর পরিপ্রেক্ষিতে পাকিস্তানের শীর্ষ সামরিক ও বেসামরিক নেতৃত্ব উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগের মাধ্যমে তেহরানকে এই কঠোর হুঁশিয়ারি পৌঁছে দেয়।

উল্লেখ্য, গত বছর পরমাণু শক্তিধর পাকিস্তান ও সৌদি আরবের মধ্যে একটি যুগান্তকারী দ্বিপাক্ষিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এই চুক্তির মূল শর্ত অনুযায়ী, যেকোনো এক দেশের ওপর বহিরাগত আক্রমণকে উভয় দেশের ওপর যৌথ আক্রমণ হিসেবে গণ্য করা হবে।

প্রতিরক্ষা সমঝোতার অংশ হিসেবে ইতোমধ্যেই ইয়েমেন সীমান্তবর্তী সৌদি আরবের কৌশলগত এলাকাগুলোতে পাকিস্তানি সেনা মোতায়েন করা হয়েছে। হুতিদের সাথে সৌদি আরবের নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় এই পাকিস্তানি সেনারা এখন সরাসরি যুদ্ধ পরিস্থিতির মুখোমুখি।

গত সোমবার হুতি নিয়ন্ত্রিত একটি বিমানবন্দরে সৌদি বিমান হামলার জের ধরে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে বিদ্রোহীরা। এর মাধ্যমে দীর্ঘ চার বছরের যুদ্ধবিরতি ভেঙে গেলেও পরিস্থিতি এতটা আকস্মিকভাবে উত্তপ্ত হবে, তা ইসলামাবাদের ধারণার বাইরে ছিল।

মধ্যপ্রাচ্যের এই চলমান সংকট পাকিস্তানের জন্য বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বিশেষ করে লোহিত সাগরে হুতিদের সম্ভাব্য হামলার কারণে আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য পথ অবরুদ্ধ হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে, যার ওপর পাকিস্তানের অর্থনীতি নির্ভরশীল।

এর আগে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনার ফলে জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় পাকিস্তানে জরুরি অবস্থা জারি করতে হয়েছিল। তখন দেশটির সরকারকে জ্বালানি সাশ্রয়ে ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান দ্রুত বন্ধ করার মতো কঠোর পদক্ষেপ নিতে হয়।

নিজেদের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই পাকিস্তান গত মাসে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি সম্পাদনে মধ্যস্থতা করেছিল। কূটনৈতিক জটিলতা সত্ত্বেও পাকিস্তান এই মধ্যস্থতা প্রক্রিয়া বজায় রাখতে চায়, কারণ এতে তাদের বড় কৌশলগত বিনিয়োগ রয়েছে।

নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, রিয়াদ ও ইসলামাবাদের এই প্রতিরক্ষা চুক্তি প্রমাণ করে যে উপসাগরীয় আরব দেশগুলো এখন আর নিরাপত্তার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ওপর এককভাবে নির্ভরশীল নয়। তারা পাকিস্তানের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলোকে বিকল্প হিসেবে বেছে নিচ্ছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে পাকিস্তান সব পক্ষের সাথে ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করলেও হুতিরা হামলার পরিধি বাড়ালে ইসলামাবাদের অবস্থান বদলে যেতে পারে। তখন তারা সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের দিকে হাঁটতে পারে।

পাকিস্তানের একটি দায়িত্বশীল সূত্র দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছে, যুদ্ধ বন্ধ হওয়াই সবার জন্য মঙ্গলজনক। তবে সৌদি আরব যদি সামরিক সহায়তার জন্য আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানায়, তবে পাকিস্তান নিশ্চিতভাবেই তাদের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।

তথ্যসূত্র: জিও নিউজ (রয়টার্স অবলম্বনে)।

HN
আরও পড়ুন