যুক্তরাষ্ট্রের চলমান সামরিক অভিযানের জবাবে কুয়েতসহ পারস্য উপসাগরীয় দেশগুলোর জ্বালানি, পানি ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলার পরিধি বাড়ানোর পরিকল্পনা শুরু করেছে ইরান। একই সাথে মার্কিন বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে তুলনামূলক নিখুঁত ও আধুনিক মধ্যপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে তেহরান।
শনিবার (১৮ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম মিডল ইস্ট আই স্পেকটেটরের বরাতে এক ইরানি সামরিক সূত্র এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
ইতোমধ্যে হামলার তীব্রতা টের পেতে শুরু করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। কুয়েত পেট্রোলিয়াম করপোরেশন জানিয়েছে, ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় তাদের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি ও বেশ কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন। কুয়েতের আরিফজান গ্রাউন্ড ফোর্সেস সাপোর্ট সেন্টার, আলি আল সালেম বিমানঘাঁটি এবং আল-আহমাদি বন্দরে মার্কিন নৌবাহিনীর জ্বালানি সরবরাহ কেন্দ্রে সফল হামলার দাবি করেছে ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি)। এছাড়া বাহরাইনের শেখ ইসা বিমানঘাঁটি ও জর্ডানের মুয়াফফাক সালতি বিমানঘাঁটিতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।
উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে এক ইরানি সামরিক কর্মকর্তা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, মার্কিন হামলা বন্ধ না হলে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই ও আবুধাবি বিমানবন্দর এবং ফুজাইরাহ ও জেবেল আলি বন্দরও পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু হবে। তিনি এই চারটি স্থাপনা দ্রুত খালি করার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্টকমের অব্যাহত অভিযানে ইরানের হরমোজগান প্রদেশের ১১৬টি টেলিযোগাযোগ টাওয়ার অচল হয়ে পড়েছে। গত তিন সপ্তাহের মার্কিন হামলায় অন্তত ৫০ জন ইরানি বেসামরিক নাগরিক নিহত ও ৫০০ জনেরও বেশি আহত হয়েছেন। এই সংঘাতের জেরে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক রুট ‘হরমুজ প্রণালি’ দিয়ে টানা তিন দিন ধরে কোনো তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল করতে পারেনি, যা বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় সংকটের পূর্বাভাস দিচ্ছে।
সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন বাহিনীকে মোজতবা খামেনির কড়া হুঁশিয়ারি
জর্ডানে ইরানের মিসাইল হামলায় ২ মার্কিন সেনা নিহত