বাংলাদেশের টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানার নকশায় শুধু উৎপাদন সক্ষমতা নয়, শ্রমিকের নিরাপত্তা, স্বাচ্ছন্দ্য, পরিবেশ এবং ভবনের দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতাকেও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন দেশের বিশিষ্ট স্থপতিরা। তাদের মতে, স্থানীয় জলবায়ু ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেকসই, জ্বালানিসাশ্রয়ী ও মানবকেন্দ্রিক স্থাপত্যচর্চা শিল্পের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি পরিচালন ব্যয় কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্বাচলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে (বাণিজ্যমেলা প্রাঙ্গণ) চলমান ২৫তম টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশনস ২০২৬-এর অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘আর্কিটেকচারাল ট্রেন্ডস ইন দ্য টেক্সটাইল ইন্ডাস্ট্রি’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমস-গ্লোবালের আয়োজনে এবং আর্কিকানেক্টের (ARCHICONNECT) সহযোগিতায় সেমিনারটি অনুষ্ঠিত হয়।
সেমিনারে মডারেটর ছিলেন আর্কিকানেক্টের চেয়ারম্যান ও সহপ্রতিষ্ঠাতা স্থপতি ড. আফরোজ আহমেদ। আলোচনায় অংশ নেন ‘স্থাপতিক’-এর প্রিন্সিপাল স্থপতি ও প্রতিষ্ঠাতা মো. শরীফ উদ্দিন আহমেদ, ‘গ্রাউন্ড ওয়ান’-এর প্রিন্সিপাল স্থপতি শাহনওয়াজ বাপ্পি এবং ‘প্র্যাক্সিস আর্কিটেক্টস’-এর প্রতিষ্ঠাতা স্থপতি নাজলি হোসেন।

আলোচনায় বক্তারা টেক্সটাইল ও পোশাক কারখানার স্থাপত্যে টেকসই নির্মাণ, প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহার, জ্বালানি দক্ষতা, জলবায়ু সহনশীলতা এবং শ্রমিকদের জন্য উন্নত কর্মপরিবেশ তৈরির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
স্থপতি মো. শরীফ উদ্দিন আহমেদ বলেন, স্থানীয় জলবায়ু ও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কারখানার নকশা করা হলে পরিবেশগত সুবিধার পাশাপাশি অর্থনৈতিক সুফলও পাওয়া যায়। কারখানার নকশার শুরু থেকেই বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ, ভবনের তাপ নিয়ন্ত্রণ এবং অগ্নিনিরাপত্তার মতো বিষয়গুলো বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।
শিল্পকারখানায় মানবকেন্দ্রিক স্থাপত্যের গুরুত্ব তুলে ধরে স্থপতি শাহনওয়াজ বাপ্পি বলেন, একটি কারখানার স্থাপত্য শুধু উৎপাদন কার্যক্রমকে ঘিরে হওয়া উচিত নয়। শ্রমিকদের মানসিক স্বস্তি, প্রাকৃতিক পরিবেশের সংস্পর্শ এবং কর্মপরিবেশের গুণগত মানও নকশার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এ ক্ষেত্রে ছাদবাগান, উন্মুক্ত টেরেস, অভ্যন্তরীণ কোর্টইয়ার্ড এবং পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো-বাতাসের ব্যবহারের বিভিন্ন উদাহরণ তুলে ধরেন তিনি।
স্থপতি নাজলি হোসেন টেকসই ভবন নকশায় পারফরম্যান্সভিত্তিক পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, ভবনের নকশা প্রণয়নের সময় এনার্জি মডেলিং ও লাইটিং সিমুলেশনের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করলে ভবনের সম্ভাব্য জ্বালানি ব্যবহার, পানি সাশ্রয় এবং পরিচালন ব্যয় সম্পর্কে আগেই ধারণা পাওয়া সম্ভব। এর ফলে দীর্ঘমেয়াদে কারখানার পরিচালন ব্যয় কমানোর পাশাপাশি পরিবেশের ওপর নেতিবাচক প্রভাবও কমানো যায়।
সেমিনারে সেমস-গ্লোবালের প্রেসিডেন্ট ও গ্রুপ ম্যানেজিং ডিরেক্টর মেহেরুন এন. ইসলাম বলেন, “পোশাক ও টেক্সটাইল খাতের উদ্যোক্তারা প্রতিনিয়ত তাঁদের কারখানা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন করছেন। আধুনিক ও টেকসই কারখানা গড়ে তুলতে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের শিল্পের ভাবমূর্তি আরও শক্তিশালী করতে স্থপতিদের পরিবেশবান্ধব ও শ্রমিকবান্ধব নকশা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।”
সেমিনারে সেমস-গ্লোবালের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর তানভীর কামরুল ইসলামসহ টেক্সটাইল, পোশাক ও স্থাপত্য খাতের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, ২ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ এক্সিবিশন সেন্টারে সেমস-গ্লোবালের আয়োজনে চার দিনব্যাপী ২৫তম টেক্সটাইল সিরিজ অব এক্সিবিশনস ২০২৬ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে টেক্সটাইল ও তৈরি পোশাক শিল্পের মেশিনারি, সুতা, ফেব্রিক, অ্যাকসেসরিজ, ডাইস্টাফ ও সংশ্লিষ্ট প্রযুক্তি নিয়ে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করছে।
চট্টগ্রামের জলপথ কাজে লাগাতে চায় সরকার: অর্থমন্ত্রী