ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে এ পর্যন্ত প্রায় ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হয়েছে এবং সামরিক কার্যক্রম সচল রাখতে পেন্টাগনের জন্য আরও অতিরিক্ত তহবিলের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
বুধবার (২২ জুলাই) সিনেটের শুনানিতে এই অর্থ দাবির পর তিনি বিরোধী ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতাদের চরম তোপ ও তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ইরানের সংঘাত শুরুর পর সিনেট বরাদ্দ কমিটির মুখোমুখি হয়ে পেন্টাগন প্রধান বলেন, মে মাসের হিসাবের পর থেকে যুদ্ধের ব্যয় প্রায় ৮ বিলিয়ন ডলার বেড়েছে। সামরিক প্রশিক্ষণ ও সদস্য বেতন অব্যাহত রাখতে দপ্তরের জন্য মোট ৮৭ বিলিয়ন ডলার জরুরি তহবিল প্রয়োজন, যার ৬৭ বিলিয়ন ডলারই খরচ হবে মধ্যপ্রাচ্যের কার্যক্রমে। একই সাথে হোয়াইট হাউস পরবর্তী অর্থবছরের জন্য পেন্টাগনের বাজেট সর্বকালের সর্বোচ্চ ১.৫ ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার আবেদন জানিয়েছে।
শুনানিকালে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভকারীরা কয়েকবার বিঘ্ন ঘটিয়ে 'ইরান ও ফিলিস্তিনে বোমা হামলা বন্ধ কর' স্লোগান দেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাট সিনেটররা অভিযোগ করেন, মার্কিন জনগণ যখন দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে, তখন প্রশাসন বোমা তৈরির জন্য অসীম অর্থ চাচ্ছে। সিনেটর কার্স্টেন গিলিব্র্যান্ড প্রশ্ন তোলেন, প্রেসিডেন্ট যেখানে যুদ্ধ জয়ের দাবি করছেন, সেখানে প্রতিরক্ষামন্ত্রী কেন নতুন করে কোটি কোটি ডলার চাচ্ছেন? তাছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত মার্কিন ঘাঁটি পুনর্নির্মাণের খরচ বাদ দেওয়ায় যুদ্ধের প্রকৃত ব্যয় আরও অনেক বেশি বলে দাবি করেন বিরোধীরা।
পাল্টা জবাবে হেগসেথ অপর্যাপ্ত তহবিলের জন্য সাবেক বাইডেন প্রশাসনকে দায়ী করেন। তিনি জোর দিয়ে বলেন, মার্কিন বাহিনীর ‘প্রাণঘাতী সক্ষমতা’ বাড়ানো ও শক্তির মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠায় এই অর্থ অত্যন্ত জরুরি; অন্যথায় সেনা প্রশিক্ষণ ও গোলাবারুদ সরবরাহে গুরুতর ঘাটতি দেখা দেবে।
ইরানে টানা ১১ রাতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
পারমাণবিক কেন্দ্রে মার্কিন হামলা হলে যুদ্ধের বিস্তার ঘটবে : ইরান