মধ্যপ্রাচ্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলা : গাজা-ইরান ইস্যুতে কড়া অবস্থানে ২৫ দেশ

আপডেট : ২৯ জুলাই ২০২৬, ০২:১২ এএম

মধ্যপ্রাচ্যে তীব্রতর হতে থাকা সংঘাতের মাঝে সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ এবং তথ্যের স্বাধীন প্রবাহ বজায় রাখার জোর দাবি জানিয়েছে বিশ্বের ২৫টি দেশ। 

মঙ্গলবার মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশনের (এমএফসি) এক যৌথ বিবৃতিতে সদস্য দেশগুলো এ বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে। তুরস্কের শীর্ষস্থানীয় বার্তা সংস্থা আনদোলু এক প্রতিবেদনে খবরটি নিশ্চিত করেছে।

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা রক্ষায় গঠিত আন্তর্জাতিক জোট এমএফসি তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করে, সশস্ত্র সংঘাতের সময় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের কাছে সঠিক খবর পৌঁছে দিতে স্বাধীন গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম। তবে বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে সাংবাদিক হত্যা, নির্বিচারে গ্রেপ্তার এবং আটকের ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বেড়েছে।

ইসরায়েল সরকারের কঠোর সমালোচনা করে বিবৃতিতে বলা হয়, দীর্ঘ দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় স্বাধীন আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। 

ফলে সেখানে ঘটে যাওয়া প্রকৃত ঘটনার বস্তুনিষ্ঠ বস্তু উপস্থাপন চরমভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এছাড়া গণমাধ্যমের অবকাঠামো এবং প্রেস চিহ্নিত যানবাহনে হামলাকেও তীব্র নিন্দা জানানো হয়।

ইরানে সাংবাদিকদের ওপর চলমান দমন-পীড়ন এবং ইন্টারনেট সংযোগের ওপর কড়াকড়ির বিষয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জোটটি। এসব পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। 

সংঘাতরত সব পক্ষকে যুদ্ধক্ষেত্রে সাংবাদিকদের সাধারণ বেসামরিক নাগরিক হিসেবে গণ্য করার এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, কাজ করার সময় সাংবাদিকদের ওপর ইচ্ছাকৃত হামলা চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় এবং এটি 'যুদ্ধাপরাধ' হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। একই সাথে আটক সাংবাদিকদের উপযুক্ত চিকিৎসা সুবিধা এবং মানবিক মর্যাদা নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।

ঘোষণাটিতে যৌথভাবে স্বাক্ষর করেছে অস্ট্রেলিয়া, বেলজিয়াম, কানাডা, ফ্রান্স, ইতালি, জাপান, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন ও সুইজারল্যান্ডসহ জোটের ২৫টি প্রভাবশালী সদস্য রাষ্ট্র।

তথ্যসূত্র/সোর্স: আনদোলু এজেন্সি (Anadolu Agency) ও মিডিয়া ফ্রিডম কোয়ালিশন (MFC)-এর যৌথ বিবৃতি।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত