শান্তিবাদী নীতি ত্যাগ করে ‘যুদ্ধের পথে’ জাপান

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ এএম

প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে টোকিও সামরিক সক্ষমতা বাড়ানোর প্রেক্ষাপটে জাপানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধের পথে এগিয়ে যাওয়ার’ তীব্র অভিযোগ এনেছে উত্তর কোরিয়া।

কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং বুধবার এক বিবৃতিতে সতর্ক করে জানান, পিয়ংইয়ং এর জবাবে বাড়তি সামরিক পদক্ষেপ নেবে।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে এসে জাপান ক্রমাগত সামরিক ব্যয় বৃদ্ধি, প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্প্রসারণ এবং দূরবর্তী দ্বীপগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থা শক্তিশালী করছে।

মঙ্গলবার জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী জরুরি অবস্থা মোকাবেলায় সামরিক সক্ষমতা আরও বৃদ্ধির তাগিদ দেন, যেখানে চীন, রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তাহীনতাকে মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কেসিএনএ-তে প্রকাশিত বিবৃতিতে কিম ইয়ো জং বলেন, "যুদ্ধাপরাধী রাষ্ট্র জাপান খুব দ্রুত নিজেকে একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধরাষ্ট্রে রূপান্তর করছে।"

তিনি অভিযোগ করেন, জাপানের দূরপাল্লার টমাহক ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা ও মার্কিন সামরিক মহড়ায় অংশ নেওয়া প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ওয়াশিংটনের সমর্থনে এক ‘বিপজ্জনক তৎপরতা’।

তিনি আরও হুঁশিয়ার করেন যে, জাপান যদি কৌশলগত আগাম আক্রমণের সক্ষমতা অর্জনের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করে, তবে উত্তর কোরিয়া চুপ করে থাকবে না।

ঔপনিবেশিক শাসনের সহিংস ইতিহাস স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি সতর্ক করেন, সামরিকবাদের উত্তরসূরিরা প্রাণঘাতী অস্ত্র হাতে নিলে পরিণতি অত্যন্ত অপ্রীতিকর হবে।

২০২৫ সালে জাপান তার সামরিক বাজেট ৯.৭ শতাংশ বাড়িয়ে রেকর্ড ৬২.২ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করেছে, যা তাদের জিডিপির ১.৪ শতাংশ এবং ১৯৫৮ সালের পর সর্বোচ্চ।

পিয়ংইয়ংয়ের পাশাপাশি তাদের মূল মিত্র চীনও জাপানের এই রূপান্তরকে ‘নতুন সামরিকবাদ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।

এদিকে, সানায়ে তাকাইচি জাপানের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর চীন যদি তাইওয়ান দখলের চেষ্টা করে তবে জাপানি বাহিনীর প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়ায় সম্পর্কের আরও অবনতি ঘটে।

২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে পরমাণু আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর থেকে উত্তর কোরিয়া নিজেদের একটি ‘অপরিবর্তনীয় পারমাণবিক শক্তি’ হিসেবে ঘোষণা করে সামরিক উপস্থিতি বাড়িয়ে চলেছে।

সংবাদ সূত্র: বার্তা সংস্থা এএফপি (AFP) ও কেসিএনএ (KCNA)।

HN
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত