গোলাবারুদ ঘাটতির তথ্য ফাঁসকারীদের জেলের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আপডেট : ০৬ আগস্ট ২০২৬, ১০:৫৬ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের ঘাটতির খবর প্রত্যাখ্যান করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেছেন, দেশটির কাছে পর্যাপ্ত অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত রয়েছে। একই সঙ্গে এ ধরনের তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের দাবি তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক গোলাবারুদের ঘাটতির খবর প্রকাশের পর প্রতিক্রিয়ায় ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ রয়েছে এবং প্রয়োজনীয় অস্ত্র উৎপাদন অব্যাহত আছে।

তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতিরক্ষা শিল্প ইতিহাসের সর্বোচ্চ হারে নতুন কারখানা ও উৎপাদন কেন্দ্র নির্মাণ করছে। পাশাপাশি সংবাদমাধ্যমে গোলাবারুদ সংকটের তথ্য ফাঁসকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, 'এই রাষ্ট্রদ্রোহী বক্তব্য ফাঁসকারীদের খুঁজে বের করা হচ্ছে। তাদের জন্য দীর্ঘমেয়াদি কারাদণ্ডের আবেদন করা হবে।'

এর আগে ওয়াশিংটন পোস্টের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ক্যাম্প ডেভিডে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের কাছে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে গোলাবারুদের ঘাটতির প্রভাব নিয়ে জানতে চান। তবে হোয়াইট হাউস ও পেন্টাগন ওই প্রতিবেদন অস্বীকার করেছে।

অন্যদিকে সিএনএনের প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, ইরানের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর যুক্তরাষ্ট্র তাদের ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধে ব্যবহৃত ইন্টারসেপ্টরের প্রায় ৮০ শতাংশ এবং প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় অর্ধেক ব্যবহার করে ফেলেছে। পেন্টাগনের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা অভ্যন্তরীণভাবে অস্ত্র ও গোলাবারুদের মজুদকে 'বিপজ্জনক মাত্রায় কম' বলে মূল্যায়ন করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) তথ্য অনুযায়ী, সংঘাত শুরুর আগে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে প্রায় ২ হাজার ২০০টি আধুনিক প্যাট্রিয়ট এবং ৪৫২টি থাড ক্ষেপণাস্ত্র ছিল।

রয়টার্সের এক বিশেষ প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, পাঁচ মাসের সংঘাত চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী তাদের দীর্ঘপাল্লার অত্যন্ত নির্ভুল ক্ষেপণাস্ত্রের বড় একটি অংশ ব্যবহার করেছে। বিশেষ করে আর্মি ট্যাকটিক্যাল মিসাইল সিস্টেম (এটিএসিএমএস) এবং প্রিসিশন স্ট্রাইক মিসাইল (পিআরএসএম)-এর মজুদ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি। প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্রের মূল্য ১০ লাখ ডলারের বেশি এবং এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দীর্ঘপাল্লার নির্ভুল হামলার অস্ত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।

AS
আরও পড়ুন
সর্বশেষপঠিত