ইসরায়েলের ভান্ডারে নতুন সংযোজন জার্মান সাবমেরিন 'আইএনএস ড্রাকন'

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:৪৪ পিএম

ইরানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতা বাড়াতে জার্মানির তৈরি নতুন ডলফিন শ্রেণির সাবমেরিন হাতে পেয়েছে ইসরায়েল। প্রায় ৬৩৪ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এই সাবমেরিনটির নাম আইএনএস। আকার ও সক্ষমতার দিক থেকে এটিকে ইসরায়েলি নৌবাহিনীর সবচেয়ে উন্নত ও ব্যয়বহুল সাবমেরিন হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে।

জার্মানির থিসেনক্রুপ মেরিন সিস্টেমস ইসরায়েলি নৌবাহিনীর জন্য বিশেষভাবে সাবমেরিনটি তৈরি করেছে। ডলফিন শ্রেণির ষষ্ঠ এবং পরিবর্তিত ডলফিন-২ শ্রেণির তৃতীয় এই সাবমেরিনটি জুলাইয়ের শেষ দিকে জার্মানির কিলে অবস্থিত শিপইয়ার্ড থেকে ইসরায়েলের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

৭০ মিটারের বেশি দীর্ঘ আইএনএসের ওজন বা পানিতে মোট স্থানচ্যুতি ২ হাজার টনের বেশি। প্রতিবেদনে এটিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানিতে নির্মিত সবচেয়ে বড় সাবমেরিন হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, সাবমেরিনটি ইসরায়েলের সমুদ্রভিত্তিক প্রতিরোধ ও পাল্টা আঘাতের সক্ষমতায় গুরুত্বপূর্ণ নতুন স্তর যুক্ত করতে পারে। বিশেষ করে ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এটি আরও তাৎপর্যপূর্ণ।

ইসরায়েলের জাতীয় নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ এহুদ আইলাম বলেন, দেশের কৌশলগত সক্ষমতা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সমুদ্রে অবস্থানরত সাবমেরিন পাল্টা হামলা চালানোর সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে। এ কারণে সবসময় অন্তত কিছু সাবমেরিন সমুদ্রে প্রস্তুত রাখা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।

আইলামের মতে, আইএনএসের বড় আকার ইসরায়েলকে ক্ষেপণাস্ত্রের পাল্লা বাড়ানোসহ আরও বিস্তৃত সামরিক বিকল্প ব্যবহারের সুযোগ দিতে পারে। এর ফলে ভূমধ্যসাগরে অবস্থান করেও ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার সক্ষমতা তৈরি হতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

ইসরায়েলের ডলফিন শ্রেণির সাবমেরিনগুলোকে দেশটির প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় দ্বিতীয় আঘাত হানার সক্ষমতার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়। অর্থাৎ স্থল ও আকাশভিত্তিক কৌশলগত সক্ষমতা বড় ধরনের আঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত হলেও সমুদ্রে থাকা সাবমেরিন থেকে পাল্টা হামলার সুযোগ রাখা যায়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, আইএনএসের প্রধান দায়িত্বগুলোর মধ্যে গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও নজরদারি থাকলেও সম্ভাব্য বড় ধরনের সংঘাত বা ‘ডুমসডে’ পরিস্থিতিতে ব্যবহারের প্রস্তুতিই এর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা।

‘ড্রাকন’ নামের অর্থ ড্রাগন। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, পৌরাণিক এই সামুদ্রিক প্রাণী শক্তি ও স্বাতন্ত্র্যের প্রতীক। নামটির মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া ইসরায়েলি সাবমেরিন আইএনএস দাকার ও এর ক্রুদের স্মৃতিও ধারণ করা হয়েছে।

ইরানকে ঘিরে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তৎপরতা এবং তেহরানের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই নতুন সাবমেরিনটি ইসরায়েলি নৌবহরে যুক্ত হলো। ফলে দীর্ঘমেয়াদি সংঘাতের ক্ষেত্রে ইসরায়েলের সমুদ্রভিত্তিক কৌশলগত সক্ষমতা আরও জোরদার হলো বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। সূত্র: ফক্স নিউজ

AS
আরও পড়ুন