এআই দিয়ে সাইবার হামলা চালাচ্ছে উত্তর কোরিয়ার কিমসুকি

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০২৬, ০৯:২৫ পিএম

সামরিক, কূটনৈতিক ও একাডেমিক খাতের লক্ষ্যবস্তুতে সাইবার হামলা আরও কার্যকর করতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করছে উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকাররা। দক্ষিণ কোরিয়ার সাইবার নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠান জেনিয়ানের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হ্যাকিং গোষ্ঠী কিমসুকি ২০২৬ সাল থেকে বর্শা-ধাঁচের ফিশিং হামলায় এআই দিয়ে তৈরি নথি ব্যবহার করছে। গবেষণা প্রতিবেদন, আমন্ত্রণপত্রসহ বৈধ নথির মতো দেখতে ক্ষতিকর ফাইল তৈরিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার করা হচ্ছে।

জেনিয়ানের দাবি, হামলাকারীরা অনলাইন শনাক্তকরণ এড়াতে অফলাইনে বৃহৎ ভাষা মডেল চালানোর জন্য ওলামা, জিপিটি-ফোর-অল ও মিস্টির মতো উন্মুক্ত উৎসের সরঞ্জামও ব্যবহার করেছে।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, অল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন বিষয়ের বিশ্বাসযোগ্য ও পরিপাটি নথি তৈরি করতে পারায় এআই সাইবার অপরাধীদের জন্য অত্যন্ত কার্যকর হাতিয়ার হয়ে উঠেছে। এর ফলে শুধু প্রতারণামূলক নথি তৈরির পদ্ধতিই বদলাচ্ছে না, বরং সামাজিক প্রকৌশলভিত্তিক হামলা বড় পরিসরে স্বয়ংক্রিয়ভাবে চালানোর সুযোগও তৈরি হচ্ছে।

কিমসুকি ও উত্তর কোরিয়ার অন্যান্য রাষ্ট্রীয় মদদপুষ্ট হ্যাকার গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে গত কয়েক বছরে একাধিক সাইবার হামলার অভিযোগ রয়েছে। এসব হামলার মধ্যে আর্থিক লাভের উদ্দেশ্যে চালানো আক্রমণও রয়েছে। ব্রিটিশ ব্লকচেইন বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এলিপটিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের প্রথম নয় মাসে উত্তর কোরিয়ার হ্যাকাররা দুই বিলিয়ন ডলারের বেশি মূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি চুরি করেছে।

সাইবার অপরাধ বিশ্লেষক মার্ক টি. হফম্যানের মতে, এআই সাইবার অপরাধের ধরনেই বড় পরিবর্তন এনেছে। তার ভাষায়, এখন উন্নত কম্পিউটার জ্ঞান বা দীর্ঘদিনের হ্যাকিং দক্ষতার প্রয়োজন অনেকটাই কমে গেছে; একটি কম্পিউটার ও হামলার উদ্দেশ্য থাকলেই অপরাধীরা এআই ব্যবহার করে আক্রমণ চালাতে পারছে।

বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, আগামী দিনে উত্তর কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের হুমকি সৃষ্টিকারী গোষ্ঠীগুলো সাইবার হামলার গতি ও পরিসর বাড়াতে আরও বেশি জেনারেটিভ এআই এবং এআই এজেন্ট ব্যবহার করবে। ফলে এআই-নির্ভর সাইবার হামলা চলতি দশকের অন্যতম বড় নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠতে পারে। সূত্র: আলজাজিরা

AS
আরও পড়ুন