তিন ঘণ্টায় দুই ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো উত্তর কোরিয়া

আপডেট : ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ পিএম

মাত্র তিন ঘণ্টার ব্যবধানে পূর্ব উপকূল থেকে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। রোববারের (২০ সেপ্টেম্বর) এই উৎক্ষেপণ প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যে দেশটির দ্বিতীয় দফা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা। এর কয়েক দিন আগেই ধারাবাহিক সামরিক মহড়ার মাধ্যমে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করেছিল পিয়ংইয়ং।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানায়, প্রথমে পূর্ব সাগরের দিকে একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের প্রায় তিন ঘণ্টা পর উত্তর কোরিয়া আরও একটি স্বল্পপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী এবং জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় প্রথম উৎক্ষেপণটিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হিসেবে শনাক্ত করেছে।

দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল ৩টার দিকে ওয়ানসান এলাকা থেকে প্রথম ক্ষেপণাস্ত্রটি নিক্ষেপ করা হয়। ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ২৮০ মাইল পথ অতিক্রম করে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর ধারণা, এটি হোয়াসং-১১ সিরিজের ক্ষেপণাস্ত্র হতে পারে। জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি জাপানের একচেটিয়া অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে গিয়ে পড়েছে।

দ্বিতীয় স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রটিও ওয়ানসান এলাকা থেকে স্থানীয় সময় বিকেল ৫টা ৫০ মিনিটের দিকে নিক্ষেপ করা হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, এটি ৩৭৩ মাইলের বেশি পথ অতিক্রম করে। দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা কর্তৃপক্ষ উৎক্ষেপণের শুরু থেকেই পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে আসছিল এবং জাপানের সঙ্গেও উত্তর কোরিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণসংক্রান্ত তথ্য ভাগ করে নেয়।

দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ এই স্বল্পপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের নিন্দা জানিয়েছে। গত ১২ সেপ্টেম্বরের পরীক্ষার পর সর্বশেষ উৎক্ষেপণকে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের সরাসরি লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করে পিয়ংইয়ংকে অবিলম্বে ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে সিউল।

এদিকে জাপানও কূটনৈতিক চ্যানেলে উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়েছে। জাপানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী শিনজিরো কোইজুমি বলেছেন, উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক এসব কর্মকাণ্ড জাপান, অঞ্চল এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের শান্তি ও নিরাপত্তার জন্য হুমকি তৈরি করছে।

এর এক দিন আগে, ১৯ সেপ্টেম্বর, উত্তর কোরিয়া দেশটির পরমাণু কর্মসূচির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক পরমাণু নজরদারি সংস্থার একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে। এর আগে গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের অংশগ্রহণে গুয়ামের কাছে অনুষ্ঠিত নৌ মহড়ারও নিন্দা জানিয়েছিল পিয়ংইয়ং। মহড়াটি ২৯ আগস্ট থেকে ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের প্রভাবশালী বোন কিম ইয়ো জং গত সপ্তাহে কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমেই বাড়তে থাকা উত্তেজনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক মহড়াকে দায়ী করেন। একই সঙ্গে দেশের পরমাণু অস্ত্রভান্ডার শক্তিশালী করার বর্তমান নীতিতে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলেও জানান তিনি। সূত্র: ইউএসএ টুডে

এএস
আরও পড়ুন