উনিশ বছরের মধ্যে এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় এবার সবচেয়ে কম পাশের হার। ১১ শিক্ষা বোর্ডে গড় পাশের হার ৬২ দশমিক ২৫ শতাংশ। অর্থাৎ পরীক্ষায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রায় ৩৮ শতাংশই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। মোট ১৮ লাখ ২৯ হাজার ৪৮৫ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ফেল করেছে ৬ লাখ ৯০ হাজার ৬০৮ জন।
গত বছরের তুলনায় অকৃতকার্যের সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১৫ শতাংশ। একই সঙ্গে জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও কমেছে ২২ হাজার ৩৫৬ জন।
এই ফলাফলকে কেবল ‘খারাপ ফল’ হিসেবে দেখলে এর প্রকৃত কারণগুলো আড়ালে থেকে যাবে। ফল বিশ্লেষণে দেখা যায়, এবার বিপর্যয়ের পেছনে একাধিক কারণ কাজ করেছে। তবে সবচেয়ে বড় দুটি কারণ হিসেবে সামনে এসেছে ইংরেজি ও গণিতে দুর্বলতা এবং মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অকৃতকার্যতা। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার ধরনে পরিবর্তন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মানের বৈষম্য, শহর-গ্রামের শিক্ষাগত ব্যবধান এবং কিছু ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীদের মৌলিক ভিত্তি দুর্বল থাকা।
ইংরেজি ও গণিতেই বড় ধাক্কা
এসএসসি পরীক্ষায় ইংরেজি ও গণিত দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। বিশেষ করে মানবিক ও ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগের শিক্ষার্থীরা এ দুটি বিষয়ে তুলনামূলক বেশি অকৃতকার্য হয়েছে। ফলে সামগ্রিক পাশের হারেও বড় প্রভাব পড়েছে।
ময়মনসিংহ শিক্ষা বোর্ডের ফলাফল এ সমস্যার একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে। সেখানে ইংরেজিতে পাশ করেছে মাত্র ৬৬ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী। অর্থাৎ প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৩৩ জন ইংরেজিতে ফেল করেছে। গণিতে পাশের হার ৬৯ দশমিক ৬১ শতাংশ; অর্থাৎ এ বিষয়েও প্রতি ১০০ জনে প্রায় ৩০ জন অকৃতকার্য হয়েছে।
প্রশ্ন হলো, প্রতিবছর একই ধরনের সমস্যা কেন হচ্ছে?
এর উত্তর খুঁজতে গেলে শিক্ষার্থীদের মৌলিক দক্ষতার দিকে তাকাতে হবে। প্রাথমিক ও নিম্নমাধ্যমিক পর্যায় থেকেই ইংরেজি ভাষার ভিত্তি এবং গণিতের মৌলিক ধারণা শক্তিশালী না হলে নবম-দশম শ্রেণিতে এসে শুধু গাইড, নোট বা পরীক্ষামুখী প্রস্তুতির মাধ্যমে ভালো ফল করা কঠিন। মুখস্থনির্ভর প্রস্তুতি কোনো কোনো বিষয়ে সাময়িক সাফল্য এনে দিতে পারে; কিন্তু ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয় নিয়মিত অনুশীলন ও ধারণাভিত্তিক শেখার দাবি রাখে।
মানবিক বিভাগে বিপর্যয় কেন?
এবার ফলাফলের সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিকগুলোর একটি মানবিক বিভাগের ফল। বিজ্ঞান বিভাগে পাশের হার ৮০ দশমিক ৬৪ শতাংশ এবং ব্যবসায় শিক্ষায় ৬৪ দশমিক ২৯ শতাংশ হলেও মানবিক বিভাগে তা নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ৭৪ শতাংশে। অর্থাৎ মানবিক বিভাগের অর্ধেকেরও বেশি পরীক্ষার্থী উত্তীর্ণ হতে পারেনি।
এটি শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত দুর্বলতার বিষয় নয়। মানবিক বিভাগের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশ আর্থসামাজিকভাবে তুলনামূলক পিছিয়ে থাকা পরিবার থেকে আসে। অনেক ক্ষেত্রে তাদের বিদ্যালয়ে বিষয়ভিত্তিক দক্ষ শিক্ষক, অতিরিক্ত পাঠদান, প্রযুক্তিগত সুবিধা ও পর্যাপ্ত শিক্ষাসামগ্রীও কম থাকে।
ফলে ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়ে দুর্বল শিক্ষার্থীরা প্রয়োজনীয় সহায়তা না পেয়ে ধীরে ধীরে পিছিয়ে পড়ে। নবম-দশম শ্রেণিতে এসে সেই ঘাটতি পূরণ করা আরও কঠিন হয়ে যায়।
আইসিটিতে প্রায় শতভাগ পাস—একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত
এবারের ফলাফলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বা আইসিটি বিষয়ে প্রায় সব বোর্ডেই ৯৮ শতাংশের বেশি শিক্ষার্থী উত্তীর্ণ হয়েছে। অথচ ইংরেজি ও গণিতে বড় ধরনের ব্যর্থতা দেখা গেছে।
এই বৈপরীত্য গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রশ্ন সামনে আনে—শিক্ষার্থীরা কি কঠিন ও ধারণাভিত্তিক বিষয়ে পর্যাপ্ত সময় দিচ্ছে না, নাকি শিক্ষাদান পদ্ধতিতেই সমস্যা রয়েছে?
আইসিটি বিষয়ে অনেক ক্ষেত্রে ব্যবহারিক, দৃশ্যনির্ভর ও তুলনামূলক সহজবোধ্য শিক্ষণপদ্ধতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বাড়ায়। বিপরীতে ইংরেজি ও গণিতের ক্ষেত্রে নিয়মিত অনুশীলন, ভুল সংশোধন এবং ব্যক্তিগত নির্দেশনার প্রয়োজন বেশি। অর্থাৎ বিষয়ভেদে শিক্ষার্থীদের শেখানোর পদ্ধতিতেও পরিবর্তন প্রয়োজন।
মোবাইল ফোন কি দায়ী?
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার বাইরে অতিরিক্ত সময় কাটানো, বিশেষ করে মোবাইল ফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দীর্ঘ সময় ব্যয় করাকে ফল বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন অনেকে।
তবে মোবাইল ফোনকে এককভাবে দায়ী করলে সমস্যার পূর্ণ চিত্র পাওয়া যাবে না। প্রযুক্তি এখন শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ উপকরণ। অনলাইন ক্লাস, শিক্ষামূলক ভিডিও, ডিজিটাল বই ও অনুশীলন প্ল্যাটফর্ম শিক্ষার্থীদের শেখার সুযোগ বাড়িয়েছে।
সমস্যা হলো ব্যবহারের ধরন। বিনোদন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত সময় ব্যয় করলে স্বাভাবিকভাবেই মনোযোগ, নিয়মিত পড়াশোনা ও অনুশীলনের সময় কমে যায়। বিশেষ করে গণিত ও ইংরেজির মতো ধারাবাহিক অনুশীলননির্ভর বিষয়ে এর নেতিবাচক প্রভাব বেশি পড়তে পারে।
শিক্ষক ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের দায়ও কম নয়
ফল খারাপ হলেই শিক্ষার্থীদের দায়ী করার প্রবণতা দীর্ঘদিনের। কিন্তু এবার ফলাফল নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে শিক্ষাব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে।
একটি শিক্ষার্থী যদি ধারাবাহিকভাবে ইংরেজি ও গণিতে দুর্বল থাকে, তাহলে বিদ্যালয় পর্যায়ে সেই দুর্বলতা শনাক্ত করার কথা। নিয়মিত মূল্যায়ন, শ্রেণিকক্ষে অংশগ্রহণ, বাড়ির কাজ, সাপ্তাহিক পরীক্ষা এবং শিক্ষক-অভিভাবক যোগাযোগের মাধ্যমে দুর্বল শিক্ষার্থীকে চিহ্নিত করা সম্ভব।
কিন্তু অনেক প্রতিষ্ঠানে এখনো পরীক্ষার আগে কয়েক মাসের প্রস্তুতিকেই মূল শিক্ষা হিসেবে দেখা হয়। এতে শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতার পরিবর্তে পরীক্ষায় পাস করার কৌশল গুরুত্ব পায়। এসএসসি পরীক্ষার ফলাফলে এবার যে চিত্র দেখা গেছে, তা এই ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতাকেও সামনে এনেছে।
শহর-গ্রামের বৈষম্যও বড় কারণ
এবার শহর ও গ্রামের শিক্ষার্থীদের ফলাফলে বৈষম্য প্রকট হয়েছে। শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য বাংলাদেশের পুরোনো সমস্যা হলেও এর প্রভাব এখন আরও স্পষ্ট।
শহরের অনেক শিক্ষার্থী যেখানে ভালো শিক্ষক, কোচিং, প্রযুক্তি, গ্রন্থাগার ও অনলাইন শিক্ষাসামগ্রী ব্যবহারের সুযোগ পায়, সেখানে প্রত্যন্ত অঞ্চলের অনেক শিক্ষার্থী এখনো পর্যাপ্ত শিক্ষক ও শিক্ষাসামগ্রীর সংকটে থাকে।
বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিতের মতো বিষয়ে দক্ষ শিক্ষক না থাকলে শিক্ষার্থীদের দুর্বলতা দ্রুত বাড়তে থাকে। ফলে একই পাঠ্যক্রম ও একই পরীক্ষা হলেও প্রস্তুতির সুযোগ সমান থাকে না।
৩১২ প্রতিষ্ঠানে একজনও পাস করেনি
এবার ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো শিক্ষার্থীই উত্তীর্ণ হতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ১৩৪। অর্থাৎ এক বছরের ব্যবধানে এমন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি হয়েছে।
মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের ফলাফলও উদ্বেগজনক। দাখিল পরীক্ষায় ২২৬টি প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীই পাস করতে পারেনি। গত বছর এ সংখ্যা ছিল ৮৬।
এ ধরনের ফলাফল কোনোভাবেই শুধু শিক্ষার্থীদের ব্যর্থতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। একটি প্রতিষ্ঠানের একজন শিক্ষার্থীও যদি পাস না করে, তাহলে সেখানে শিক্ষকসংকট, পাঠদানের মান, উপস্থিতি, প্রশাসনিক তদারকি, শিক্ষার্থীদের আর্থসামাজিক অবস্থা এবং অভিভাবকদের সম্পৃক্ততা—সবকিছু খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
অন্যদিকে শতভাগ পাস করা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাও ৯৮৪ থেকে কমে ৬৬৯-এ নেমেছে। অর্থাৎ ভালো প্রতিষ্ঠানের সংখ্যাতেও চাপ তৈরি হয়েছে।
মেয়েরা এগিয়ে, ছেলেরা পিছিয়ে
এবারও পাশের হার ও জিপিএ-৫—দুই ক্ষেত্রেই মেয়েরা ছেলেদের চেয়ে এগিয়ে। মেয়েদের পাশের হার ৬৬ দশমিক ৬৮ শতাংশ, বিপরীতে ছেলেদের ৫৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। জিপিএ-৫ পাওয়া ছাত্রী ৬৩ হাজার ৮৯৬ জন, আর ছাত্র ৫২ হাজার ৭৮০ জন।
গত আট বছর ধরে মাধ্যমিকে মেয়েদের এগিয়ে থাকার প্রবণতা অব্যাহত রয়েছে। এর পেছনে মেয়েদের পড়াশোনায় নিয়মিততা, অভিভাবকের নজরদারি, ঝরে পড়ার হার কমে আসা এবং শিক্ষার প্রতি আগ্রহ বৃদ্ধির মতো বিষয় ভূমিকা রাখতে পারে।
অন্যদিকে ছেলেদের একটি অংশ পড়াশোনার পাশাপাশি বিভিন্ন ধরনের কাজে যুক্ত হওয়া, প্রযুক্তি ও বিনোদনে বেশি সময় ব্যয় করা কিংবা বিদ্যালয়ের প্রতি আগ্রহ হারানোর কারণে পিছিয়ে পড়ছে কি না, সেটিও গবেষণার বিষয় হওয়া উচিত।
বিজ্ঞানেও ভালো, উচ্চতর গণিতেও ভালো—তাহলে সমস্যা কোথায়?
ফলাফলের আরেকটি চমক হলো পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন এবং উচ্চতর গণিতে তুলনামূলক ভালো ফল। ১১ বোর্ডের মধ্যে সাতটিতে পদার্থবিজ্ঞানে ৯০ শতাংশের বেশি পাস করেছে। রসায়নে আট বোর্ডে পাশের হার ৯০ শতাংশের বেশি। উচ্চতর গণিতেও সব বোর্ডে পাশের হার ৯০ শতাংশের ওপরে।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্পষ্ট হয়—শিক্ষার্থীরা সব বিষয়ে সমানভাবে দুর্বল নয়। বরং কিছু নির্দিষ্ট বিষয়ের মৌলিক দক্ষতা অর্জনে সমস্যা রয়েছে।
এটি শিক্ষাব্যবস্থার জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। ইংরেজি ও সাধারণ গণিতে যারা ফেল করছে, তাদের একটি বড় অংশ হয়তো বিজ্ঞানভিত্তিক বা অন্য বিষয়ে তুলনামূলক ভালো করছে। তাই ‘শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করে না’—এমন সরল ব্যাখ্যা দিয়ে সমস্যার সমাধান হবে না।
মানবিক বিবেচনায় নম্বর
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের পাবলিক পরীক্ষার ফলাফলে পাশের হার বাড়ানোর এক ধরনের প্রবণতা নিয়ে আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে পরীক্ষার ফল ভালো দেখাতে শিক্ষার্থীদের তুলনামূলক বেশি নম্বর দেওয়ার অভিযোগ বিভিন্ন মহলে উঠেছিল। অভিযোগ ছিল, কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিক্ষার্থীরা পাস নম্বরের কাছাকাছি না থাকলেও মানবিক বিবেচনায় নম্বর বাড়িয়ে তাদের উত্তীর্ণ করা হতো। ফলে কাগজে-কলমে পাশের হার বাড়লেও শিক্ষার্থীদের প্রকৃত দক্ষতা ও জ্ঞান কতটা অর্জিত হয়েছে, তা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এবারের এসএসসি ফলাফলে পাশের হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় সেই পুরোনো বিতর্কও নতুন করে সামনে এসেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, আগের বছরগুলোর তুলনায় এবার মূল্যায়ন তুলনামূলক কঠোর হওয়ায় প্রকৃত চিত্র প্রকাশ পেয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে সুনির্দিষ্ট প্রমাণ প্রয়োজন। পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন, নম্বর প্রদানের পদ্ধতি এবং বোর্ডভিত্তিক ফলাফলের তথ্য প্রকাশ ও স্বাধীন বিশ্লেষণ করা হলে প্রকৃত বাস্তবতা স্পষ্ট হতে পারে। কারণ পরীক্ষার ফলের মূল উদ্দেশ্য শুধু পাশের হার বাড়ানো নয়; শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতার নিরপেক্ষ মূল্যায়ন নিশ্চিত করা।
নতুন শিক্ষাক্রমে পরীক্ষা
চলতি বছর যেসব শিক্ষার্থী এসএসসি ও সমমান পরীক্ষায় বসেছেন, তারা ২০২৪ সালে নবম শ্রেণিতে পড়েছেন আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণয়ন করা নতুন শিক্ষাক্রমে। কিন্তু সে বছরের ৫ অগাস্ট গণঅভ্যুত্থানের পর মাধ্যমিক পর্যায়ে ওই শিক্ষাক্রম বাতিল করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
পরে ২০১২ সালের শিক্ষাক্রম পরিমার্জন করে ২০২৫ সালে ওই শিক্ষার্থীদের দশম শ্রেণিতে নতুন বই দেওয়া হয়।
শিক্ষাক্রমে এ পরিবর্তনকে এবারের ফল কিছুটা খারাপ হওয়ার কারণ হিসেবে দেখছেন রাজধানীর মতিঝিল সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের জ্যেষ্ঠ শিক্ষক শাহীনা কবীর।
এখন করণীয় কী?
ফল বিপর্যয়ের পর শুধু শিক্ষক-শিক্ষার্থীকে দোষারোপ না করে একটি সমন্বিত মূল্যায়ন জরুরি। প্রথমত, ইংরেজি ও গণিতের দুর্বল শিক্ষার্থীদের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণি থেকেই নিয়মিত ডায়াগনস্টিক পরীক্ষা চালু করা যেতে পারে। কোন শিক্ষার্থী কোন জায়গায় দুর্বল, তা শনাক্ত করে আলাদা সহায়তা দিতে হবে।
দ্বিতীয়ত, শিক্ষক প্রশিক্ষণকে আরও কার্যকর করতে হবে। বিশেষ করে ইংরেজি ও গণিত শিক্ষকদের ধারণাভিত্তিক ও আনন্দদায়ক পাঠদানের কৌশল শেখাতে হবে।
তৃতীয়ত, গ্রাম ও শহরের শিক্ষার সুযোগের বৈষম্য কমাতে হবে। প্রত্যন্ত অঞ্চলের বিদ্যালয়ে দক্ষ শিক্ষক, ডিজিটাল শিক্ষাসামগ্রী ও অতিরিক্ত একাডেমিক সহায়তা নিশ্চিত করা জরুরি।
চতুর্থত, ৩১২টি শূন্য-পাস প্রতিষ্ঠানের প্রতিটিকে আলাদাভাবে অডিট করতে হবে। কোথায় সমস্যা—শিক্ষক, শিক্ষার্থী, ব্যবস্থাপনা নাকি সামাজিক বাস্তবতায়—তা বের না করলে একই ঘটনা আগামী বছরও ঘটতে পারে।
একাদশ শ্রেণিতে খালি থাকবে সাড়ে ১৩ লাখ আসন
এসএসসিতে মানবিকে পাসের চেয়ে ফেলের হার বেশি
পাঁচ বছরের মধ্যে এবারই সর্বনিম্ন জিপিএ-৫
১০ শিক্ষকের স্কুলে ১ শিক্ষার্থীর সাফল্য!