যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে কোনো সামরিক পদক্ষেপ নিলে এবার আগের তুলনায় আরও ধ্বংসাত্মক অস্ত্র ব্যবহার করা হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোর। আইআরজিসির মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেবি বলেছেন, নতুন কোনো যুদ্ধ শুরু হলে ইরানের সামরিক সক্ষমতা ও ব্যবহৃত অস্ত্র আগের সংঘাতগুলোর তুলনায় সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।
মেহর নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রকে ইরানের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের দুঃসাহসী সামরিক পদক্ষেপ না নেওয়ার সতর্কবার্তা দিতে গিয়ে এসব মন্তব্য করেন মোহেবি।
তিনি বলেন, ভবিষ্যৎ যুদ্ধে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্রে ব্যবহৃত ওয়ারহেডগুলো আগের যুদ্ধগুলোর তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাত্মক হবে। নতুন করে সংঘাত শুরু হলে ইরানের অস্ত্র ও সামরিক সক্ষমতা সব দিক থেকেই আগের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা হবে বলেও দাবি করেন তিনি।
মোহেবির বক্তব্যে মূলত যুক্তরাষ্ট্রকে সামরিক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি ইরানের পাল্টা আঘাতের সক্ষমতার বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। তার সতর্কবার্তা অনুযায়ী, নতুন কোনো সংঘাত শুরু হলে তেহরানের প্রতিক্রিয়া আগের সংঘাতের মতো সীমিত থাকবে না।
আইআরজিসির মুখপাত্র এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি দাবিও প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, ওয়াশিংটন আইআরজিসির কর্মকর্তাদের সঙ্গে গোপনে বা পর্দার আড়ালে আলোচনা চালাচ্ছে। মোহেবি সেই দাবি নাকচ করে দেন।
ট্রাম্পের এমন দাবিকে কটাক্ষ করে তিনি বলেন, মাঠের বাস্তবতায় মার্কিন প্রেসিডেন্টের কল্পনা কোনো কাজে আসবে না। তার দাবি, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে কার্যকর একমাত্র পথ হলো পরাজয় মেনে নেওয়া এবং ইরানের নির্ধারিত শর্ত মেনে চলা।
মোহেবির বক্তব্যে ইরানের সামরিক অবস্থানের পাশাপাশি সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমঝোতার ক্ষেত্রেও তেহরানের কঠোর অবস্থান ফুটে উঠেছে। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রেও ইরান নিজেকে চাপের মুখে থাকা পক্ষ হিসেবে নয়, বরং শর্ত নির্ধারণকারী পক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করছে।
নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা নিয়ে ইরানের এই সতর্কবার্তা এমন সময়ে এলো, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে উত্তেজনা আবারও বাড়ছে। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এবং দুই দেশের সামরিক তৎপরতা ঘিরে বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে।
এর মধ্যেই আইআরজিসির পক্ষ থেকে নতুন যুদ্ধের ক্ষেত্রে আরও শক্তিশালী অস্ত্র ব্যবহারের ঘোষণা পরিস্থিতির সামরিক ঝুঁকি আরও স্পষ্ট করেছে। তবে ইরান ঠিক কোন নতুন অস্ত্র বা কী ধরনের ওয়ারহেড ব্যবহারের কথা বলছে, মোহেবি তার বক্তব্যে তার নির্দিষ্ট কোনো বিবরণ দেননি।
ফলে তার হুঁশিয়ারিটি আপাতত একটি কৌশলগত বার্তা হিসেবেই সামনে এসেছে, নতুন করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাত শুরু হলে ইরানের সামরিক প্রতিক্রিয়া আগের তুলনায় আরও তীব্র ও ধ্বংসাত্মক হতে পারে বলে ওয়াশিংটনকে সতর্ক করছে তেহরান। সূত্র: মেহর নিউজ এজেন্সি
'নিজেদের সংকট লুকাতে ট্রাম্পের অর্থনৈতিক যুদ্ধ ঘোষণা'
মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাতের পেছনে দায়ী যুক্তরাষ্ট্র: গালিবাফ
হুতিদের থামাতে ব্যর্থ হবে সৌদি: হোসেইন মোহেবি