ঢাবির ১৯৬৮ ব্যাচে রাষ্ট্রপতির সহপাঠী যারা ছিলেন

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৫৬ এএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৯৬৮ সালের স্নাতক (সম্মান) ব্যাচ যেন দেশের ইতিহাসের এক উজ্জ্বল অধ্যায়। এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকে পরবর্তী সময়ে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদ রাষ্ট্রপতি থেকে শুরু করে উপদেষ্টা, মন্ত্রী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর, রাষ্ট্রদূত ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক—বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিজেদের কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখেছেন এই ব্যাচের একাধিক শিক্ষার্থী।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের এই ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নবনির্বাচিত রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অর্থনীতি বিভাগের ছাত্র হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ করে তিনি পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন এবং দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে আসীন হন।

একই ব্যাচের আরেক কৃতী শিক্ষার্থী অধ্যাপক ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ। তিনি অর্থনীতিবিদ হিসেবে দেশ-বিদেশে খ্যাতি অর্জন করেছেন। ১৯৯৬ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি সাম্প্রতিক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা দেশের অর্থনৈতিক চিন্তাভাবনায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে।

এই ব্যাচের আরেক উল্লেখযোগ্য শিক্ষার্থী ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। তিনি বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অর্থ উপদেষ্টার দায়িত্বও পালন করেন। দেশের আর্থিক ও মুদ্রানীতি ব্যবস্থাপনায় তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা তাঁকে জাতীয় পর্যায়ের একজন গুরুত্বপূর্ণ অর্থনীতিবিদ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।

১৯৬৮ ব্যাচের আরেক কৃতী ছাত্র ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি জাতীয় পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন। এরশাদ সরকারের সময়ে তিনি শিক্ষামন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তী সময়ে আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রিসভায় পরিবেশ ও বনমন্ত্রী এবং পানিসম্পদমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেন।

এই ব্যাচের আরেক পরিচিত মুখ এ কে আবদুল মোমেন। তিনি আওয়ামী লীগ সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। কূটনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও পররাষ্ট্রনীতির ক্ষেত্রে তাঁর দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে। এর আগে তিনি জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

শুধু রাজনীতি, প্রশাসন ও অর্থনীতিতেই নয়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের ১৯৬৮ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও নিজেদের অবস্থান তৈরি করেছেন। এই ব্যাচ থেকে একাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তাঁদের কেউ কেউ বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যাপনা করে শিক্ষা ও গবেষণায় অবদান রেখেছেন।

একই শ্রেণিকক্ষে বসে অর্থনীতি পড়া এসব শিক্ষার্থী পরবর্তী সময়ে ভিন্ন ভিন্ন পথ বেছে নিয়েছেন। কেউ রাজনীতিতে, কেউ অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণে, কেউ কূটনীতিতে, আবার কেউ শিক্ষকতা ও গবেষণায় নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন। তাঁদের কর্মজীবনের বৈচিত্র্য এবং সাফল্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯৬৮ ব্যাচকে বিশেষ মর্যাদা দিয়েছে।

Maz
আরও পড়ুন