প্রিমিয়ার লিগ আবারও ইউরোপীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় আর্থিক শক্তি হিসেবে নিজেদের অবস্থান জানান দিয়েছে। গ্রীষ্মকালীন দলবদলের শেষ পর্যায়ে এসে ইংলিশ ক্লাবগুলোর ব্যয়ের পরিমাণ অন্য শীর্ষ লিগগুলোর তুলনায় অনেকটাই এগিয়ে গেছে।
এখন পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো খেলোয়াড় কেনায় ব্যয় করেছে প্রায় ২.৬৮ বিলিয়ন ইউরো। এর বিপরীতে ইতালির সিরি আ ১.০১ বিলিয়ন, স্পেনের লা লিগা ৬৭৪.৪৩ মিলিয়ন, জার্মানির বুন্দেসলিগা ৬৫০.৯৫ মিলিয়ন এবং ফ্রান্সের লিগ ওয়ান ৫১২.৬৫ মিলিয়ন ইউরো খরচ করেছে।
দলবদলের সবচেয়ে বড় চুক্তিগুলোর তালিকাতেও ইংলিশ ক্লাবগুলোর আধিপত্য স্পষ্ট। চেলসির ১৩৮ মিলিয়ন ইউরোয় অ্যাস্টন ভিলা থেকে মরগান রজার্সকে দলে ভেড়ানো এবারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল দলবদল। ম্যানচেস্টার সিটি ১৩৫ মিলিয়ন ইউরোয় নটিংহাম ফরেস্টের এলিয়ট অ্যান্ডারসনকে নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে।
শীর্ষ পাঁচের মধ্যে টটেনহ্যামও রয়েছে দুবার। নিউক্যাসল থেকে সান্দ্রো টোনালিকে ১০৮ মিলিয়ন এবং ওয়েস্ট হ্যাম থেকে মাতেউস ফার্নান্দেসকে ৯৯ মিলিয়ন ইউরোয় দলে নিয়েছে তারা। আর্সেনালও নিউক্যাসল থেকে ব্রুনো গিমারায়েসকে কিনেছে ৮৭.৫ মিলিয়ন ইউরোয়।
শুধু শীর্ষ ১০টি দলবদলেই ব্যয় হয়েছে প্রায় ৯৭৪.৬ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ গ্রীষ্মের সবচেয়ে বড় ১০টি চুক্তির প্রায় ১ বিলিয়ন ইউরোই কয়েকটি ক্লাবের মধ্যে হাতবদল হয়েছে। এর আটটিতেই কোনো না কোনোভাবে প্রিমিয়ার লিগের ক্লাব জড়িত—হয় ক্রেতা, নয়তো বিক্রেতা হিসেবে।
তবে ইংলিশ ক্লাবগুলোর অর্থের প্রবাহ শুধু খেলোয়াড় কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। তারা খেলোয়াড় বিক্রি করেও আয় করেছে প্রায় ১.৬৫ বিলিয়ন ইউরো। ফলে কেনাবেচার হিসাবে প্রিমিয়ার লিগের ঘাটতি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১.০৩ বিলিয়ন ইউরো।
এই জায়গাতেই প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক শক্তির আসল চিত্রটি ফুটে ওঠে। ইংলিশ ক্লাবগুলো বিপুল অর্থ খরচ করতে পারছে কারণ তাদের টেলিভিশন স্বত্ব, বাণিজ্যিক আয়, ম্যাচডে রাজস্ব এবং বৈশ্বিক দর্শকভিত্তি ইউরোপের অন্য অনেক লিগের তুলনায় শক্তিশালী। ফলে দলবদলের বাজারে বড় অঙ্কের অর্থ ঢালার সক্ষমতাও তাদের বেশি।
অন্যদিকে ফ্রান্সের লিগ ওয়ান সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র দেখাচ্ছে। তারা ৫১২.৬৫ মিলিয়ন ইউরো ব্যয়ের বিপরীতে খেলোয়াড় বিক্রি করে আয় করেছে ৮১৪.৭ মিলিয়ন ইউরো। অর্থাৎ তাদের নিট উদ্বৃত্ত প্রায় ৩০২ মিলিয়ন ইউরো। বুন্দেসলিগাও খেলোয়াড় বিক্রি করে ব্যয়ের চেয়ে প্রায় ৫০.১ মিলিয়ন ইউরো বেশি আয় করেছে।
ইতিহাস গড়লেন জাপানের কিং কাজু
ইসলাম গ্রহণের গুঞ্জন নিয়ে মুখ খুললেন রবার্তো কার্লোস