ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডে সংযুক্ত করার প্রকল্প অনুমোদন

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:২৮ পিএম

দ্বীপ জেলা ভোলাকে দেশের মূল ভূখণ্ডের সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত করতে মহাসড়ক নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ লক্ষ্যে রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা রুটে নতুন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রকল্পটির অনুমোদন দিয়েছেন।

শনিবার (২২ আগস্ট) তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক সভায় ভোলার সঙ্গে ঢাকা ও বরিশালের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সভায় সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রস্তাবিত বরিশাল (রহমতপুর–হিজলা–মেহেন্দিগঞ্জ–ভোলা) রুটটিকে তুলনামূলকভাবে সাশ্রয়ী, বাস্তবসম্মত ও কার্যকর হিসেবে বিবেচনা করা হয়। পরে এই রুটে মহাসড়ক নির্মাণের প্রস্তাব অনুমোদন দেওয়া হয়।

সভায় প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভোলার ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা দূর করে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। এ জন্য একটি সমন্বিত ও টেকসই সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে প্রকল্পের প্রাথমিক কাজ দ্রুত শেষ করে বাস্তবায়নের দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে নির্দেশনা দেন।

সংশ্লিষ্টরা জানান, প্রস্তাবিত রুটে পুরোপুরি নতুন সড়ক নির্মাণের পাশাপাশি বিদ্যমান সড়কের বেশ কিছু অংশ প্রশস্ত ও উন্নত করা হবে। নদী ও জলাভূমির কারণে যেসব জায়গায় সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্ভব নয়, সেখানে প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ করা হবে। এর অংশ হিসেবে তিনটি ছোট সেতু নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রকল্প বাস্তবায়নের আগে প্রস্তাবিত রুটের সম্ভাব্যতা, কারিগরি দিক, পরিবেশগত প্রভাব এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর বিস্তারিত যাচাই করা হবে। এরপর প্রকল্পের ব্যয় ও বাস্তবায়ন কাঠামো চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

দীর্ঘদিন ধরেই ভোলার সঙ্গে দেশের মূল ভূখণ্ডের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপনের দাবি রয়েছে। বর্তমানে জেলার মানুষের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও পণ্য পরিবহনকারীদের বড় একটি অংশকে নৌপথের ওপর নির্ভর করতে হয়। বিশেষ করে নদীপথের আবহাওয়া ও নৌযান চলাচলের সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় যাতায়াত ও পণ্য পরিবহনে বাড়তি সময় লাগে।

প্রস্তাবিত মহাসড়কটি নির্মাণ হলে ভোলার সঙ্গে বরিশাল ও ঢাকার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ তৈরি হবে। একই সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সঙ্গেও পণ্য ও যাত্রী পরিবহন সহজ হবে। এতে যাতায়াতের সময় ও ব্যয় কমার পাশাপাশি ভোলার কৃষি, মৎস্য, শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসারের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, ভোলাকে মূল সড়ক নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত করার এই উদ্যোগ শুধু যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন নয়, দ্বীপ জেলার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডেও বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। দীর্ঘদিনের ভৌগোলিক বিচ্ছিন্নতা কাটিয়ে ভোলার সঙ্গে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ ও গতিশীল হওয়ার পথ তৈরি হবে।

সভায় সড়ক পরিবহন ও সেতু এবং রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী রাজিব আহসানসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ ও দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

MCH
আরও পড়ুন