বিয়ের আনন্দ ম্লান হলো শোকে 

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫৬ পিএম

বাড়িজুড়ে তখনো বিয়ের আনন্দের রেশ। নতুন বউকে ঘরে তুলে স্বজনদের নিয়ে আনন্দে মেতে উঠেছিলেন বাবা-মা। হাসি-আনন্দ আর নাচ-গানে মুখর ছিল পুরো বাড়ি। কিন্তু সেই আনন্দ টিকল মাত্র কয়েক ঘণ্টা। রাতের আঁধারে হঠাৎ নেমে এলো এমন এক শোক, যা মুহূর্তেই নিভিয়ে দিল বিয়ের সব আলো।

বিয়ের দিন রাতেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার গাছেরদিয়াড় গ্রামের নববিবাহিত যুবক আনাস। তিনি ওই গ্রামের উত্তরপাড়ার মো. ইউসুফের একমাত্র ছেলে। বিয়ের কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁর মৃত্যুতে পরিবার, স্বজন ও এলাকাবাসীর মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) পারিবারিকভাবে দৌলতপুরের বাহেরমাদি গ্রামের এক তরুণীর সঙ্গে বিয়ে হয় আনাসের। বিকেলে নববধূকে সঙ্গে নিয়ে বাড়িতে ফেরেন তিনি। একমাত্র ছেলের বউকে ঘরে তুলে বাবা-মা ও স্বজনদের আনন্দের যেন শেষ ছিল না। নতুন বউকে ঘিরে বাড়িতে তখন উৎসবের আবহ।

কিন্তু রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই উৎসবই পরিণত হয় হৃদয়বিদারক ঘটনায়।

স্থানীয়রা জানান, রাত আনুমানিক ২টার দিকে বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। সেখানে নাচ-গানের আয়োজনও ছিল। এ সময় প্যান্ডেলের ভেতরে একটি স্ট্যান্ড ফ্যানের পাশে চেয়ারে বসেছিলেন আনাস। হঠাৎ ফ্যানটি তাঁর শরীরের ওপর পড়ে যায়। সঙ্গে সঙ্গে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন তিনি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ধারণা, ফ্যানটিতে আগে থেকেই বৈদ্যুতিক ত্রুটি বা সংযোগজনিত সমস্যা থাকতে পারে। ফ্যানটি শরীরের ওপর পড়ে যাওয়ার পরই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে গুরুতর আহত হন আনাস।

আশঙ্কাজনক অবস্থায় দ্রুত তাঁকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছিল। কিন্তু স্বজনদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই মৃত্যু হয় তাঁর।

স্থানীয়রা বলেন, যে তরুণ কয়েক ঘণ্টা আগেই নতুন জীবনের স্বপ্ন নিয়ে বিয়ে করেছিলেন, সেই তিনিই রাত পেরোনোর আগেই নিথর হয়ে গেলেন। যে হাতে নববধূর হাত ধরে ঘরে ফিরেছিলেন, সেই হাত আর কখনোই তাঁর জীবনসঙ্গীর হাত ধরবে না। মাত্র কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে স্বামীহারা হলেন নববধূ। সন্তান হারিয়ে শোকে পাথর বাবা-মা। একমাত্র ছেলেকে ঘিরে যে বাড়িতে ছিল এত আয়োজন, সেই বাড়িতেই এখন কেবল কান্নার শব্দ।

তারা জানান, আনাস ছিলেন পরিবারের একমাত্র ছেলে। তাঁর বিয়েকে ঘিরে আত্মীয়-স্বজন ও প্রতিবেশীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক আনন্দ। কিন্তু সেই আনন্দ যে এত দ্রুত বিষাদে পরিণত হবে, তা কেউ কল্পনাও করতে পারেননি।

বিয়ের দিন যে বাড়িতে ছিল হাসি-আনন্দ, কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে সেই বাড়িতেই নেমে এসেছে শোকের মাতম। নববধূকে ঘরে তুলে নতুন জীবনের স্বপ্ন দেখার আগেই আনাসকে চলে যেতে হলো না ফেরার দেশে।

স্বজনদের আহাজারি আর কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে গাছেরদিয়াড় গ্রামের বাতাস। একদিকে নতুন বউয়ের হাতে মেহেদির রং এখনো শুকায়নি, অন্যদিকে সেই হাতেই জড়িয়ে ধরতে হচ্ছে স্বামীর নিথর দেহের স্মৃতি। আনন্দের যে রাতটি হওয়ার কথা ছিল নতুন জীবনের সূচনা, সেটিই হয়ে রইল একটি পরিবারের জীবনের সবচেয়ে বিষাদময় রাত।

MCH
আরও পড়ুন