চলতি বছর গত সাত মাসে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় ১২ হাজার ৪৪৬টি মামলা হয়েছে। জানুয়ারি থেকে জুলাই প্রতি মাসে গড়ে মামলা হয়েছে এক হাজার ৭৭৮টি। পুলিশ সদর দপ্তর সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য বলছে, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে সারাদেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় মামলা হয়েছে এক হাজার ২৮১টি। এর মধ্যে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন থানায় মামলার ঘটনা ১০৮টি।
এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে দেশজুড়ে এক হাজার ১৮১টি ও ডিএমপিতে ৯৬টি, মার্চে দেশে এক হাজার ৪৮৫টি ও ডিএমপিতে ১১১টি, এপ্রিলে দেশে দুই হাজার ১১টি ও ডিএমপিতে ১৬৮টি, মে মাসে দেশে এক হাজার ৯৫২টি ও ডিএমপিতে ১৩৪টি, জুনে দেশে দুই হাজার ২০০টি ও ডিএমপিতে ১৩৮টি এবং জুলাইয়ে দেশে দুই হাজার ৩৩৬টি ও ডিএমপিতে ১৩১টি মামলা হয়েছে।
অর্থাৎ, এই সাত মাসে সারাদেশে ১২ হাজার ৪৪৬টি এবং এর মধ্যে ডিএমপিতে ৮৮৬টি মামলা নথিভুক্ত করা হয়। ২০২৫ সালে একই সময়ে দেশব্যাপী মামলা হয় ১২ হাজার ৮৩৯টি এবং এর মধ্যে ডিএমপিতে মামলা হয়েছিল এক হাজার ৪৮টি।
দেশে শিশু ও নারীদের ওপর নির্মম সহিংসতা, ধর্ষণ ও হত্যা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ)। সংস্থাটি গত ২২ মে এক বিবৃতিতে জানায়, যেসব স্থানে শিশুদের সবচেয়ে নিরাপদ থাকার কথা ছিল, সেখানেই তারা চরম বর্বরতার শিকার হচ্ছে।
ইউনিসেফ বিবৃতিতে উল্লেখ করে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এ পর্যন্ত নারী ও শিশুদের ওপর যৌন ও শারীরিক সহিংসতার যেসব তথ্য সামনে এসেছে, তাতে দেশব্যাপী শিশু এবং লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও ব্র্যাকের যৌথ উদ্যোগে ‘নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পদ্ধতিগত প্রতিবন্ধকতা এবং তা নিরসনের উপায়’ শীর্ষক একটি গবেষণা চালানো হয়। গত ২ মে রাজধানীর মহাখালীর ব্র্যাক সেন্টারে আয়োজিত এক পরামর্শ সভায় গবেষণাটির ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। এতে জানানো হয়, নারী ও শিশু নির্যাতন মামলায় সাজার হার মাত্র ৩ শতাংশ। বিচারপ্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতা, দুর্বল তদন্ত ও সাক্ষী সুরক্ষার অভাবকে এ পরিস্থিতির প্রধান কারণ হিসেবে গবেষণায় চিহ্নিত করা হয়।
দেশের ৩২ জেলার ৪৬টি ট্রাইব্যুনালে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন সময়কালে নিষ্পত্তি হওয়া চার হাজার ৪০টি মামলার নথি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে গবেষণাটি করা হয়। এতে দেখা যায়, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ আইনে ১৮০ কার্যদিবসের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা থাকলেও বাস্তবে বিচারপ্রক্রিয়া দীর্ঘসূত্রতায় জর্জরিত। একটি মামলা নিষ্পত্তি হতে গড়ে সময় লাগছে প্রায় তিন বছর সাত মাস, অর্থাৎ এক হাজার ৩৭০ দিন। এসময়ের মধ্যে প্রতিটি মামলায় গড়ে ২২ বার করে তারিখ পড়ছে, যা বিচার বিলম্বের একটি স্পষ্ট চিত্র তুলে ধরে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক এবং অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক জানান, যখন কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে সারাদেশে হইচই পড়ে যায়, তীব্র সমালোচনা শুরু হয়, তখনই যারা সরকারে থাকেন কিংবা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো একটু নড়েচড়ে বসে। কিছু একটা করছে- তা দৃশ্যমান করতে চায়। এই তথাকথিতভাবে চলার কারণেই নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাগুলো বেশি ঘটছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ২ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব বণ্টন
যুক্তরাষ্ট্র যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
অতিরিক্ত আইজি হলেন পুলিশের পাঁচ কর্মকর্তা