যুক্তরাষ্ট্রে মসজিদে হামলা, এক কিশোরীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান দিয়েগোর একটি মসজিদে প্রাণঘাতী হামলায় সহায়তা এবং হামলাকারীদের শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী লেখা প্রচারের অভিযোগে ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছে।

উত্তর ক্যারোলিনার এক প্রসিকিউটর জানিয়েছেন, মে মাসে সান দিয়েগোর একটি মসজিদে তিনজন নিহত হওয়ার ঘটনায় ওই কিশোরী হামলার ভিডিও সরাসরি সম্প্রচার করেছিল এবং হামলাকারীদের শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদী মতাদর্শের লেখা ছড়িয়ে দিয়েছিল। তার বিরুদ্ধে ‘সহায়তা ও প্ররোচনার মাধ্যমে হত্যা’ (murder by aiding and abetting) অভিযোগ আনা হয়েছে।

দক্ষিণাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য উত্তর ক্যারোলিনায় বসবাসকারী ওই কিশোরীর নাম প্রকাশ করা হয়নি। গত সপ্তাহে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। সোমবার গ্র্যান্ড জুরি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে।

ফোরসাইথ কাউন্টির ডিস্ট্রিক্ট অ্যাটর্নি জিম ও’নিল বলেন, স্কুল পুনরায় খোলার আগে এবং সামনে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব থাকায় মেয়েটিকে ছেড়ে দেওয়া নিয়ে কর্তৃপক্ষ উদ্বিগ্ন ছিল। তিনি বলেন, ‘সে আবার স্কুলে ফিরে গেলে বা ছুটির সময় কী করতে পারে, সে বিষয়ে আমরা নিশ্চিত ছিলাম না।’

আগামী ১১ সেপ্টেম্বর থেকে ইহুদি ধর্মীয় উৎসব রোশ হাশানাহ শুরু হওয়ার কথা। প্রসিকিউটরের দাবি, হামলাকারীদের পরবর্তী লক্ষ্য একটি সিনাগগও ছিল।

উত্তর ক্যারোলিনার আইনের ব্যাখ্যা দিয়ে ও’নিল বলেন, কেউ কোনো অপরাধ সংঘটনে অন্য ব্যক্তিকে সহায়তা বা প্ররোচনা করলে আইন অনুযায়ী তাকেও সেই অপরাধের জন্য দায়ী করা যায়—যেন সে নিজেই অপরাধের সব কার্যক্রম সম্পন্ন করেছে।

কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, হামলায় জড়িত দুই বন্দুকধারী হলো ১৭ বছর বয়সী কেইন ক্লার্ক এবং ১৮ বছর বয়সী ক্যালেব ভাসকেজ। গত ১৮ মে তারা সান দিয়েগোর ইসলামিক সেন্টারে হামলা চালায়।

হামলার সময় সেখানে দায়িত্বে থাকা নিরাপত্তাকর্মী পাল্টা গুলি চালিয়ে হামলাকারীদের ঠেকানোর চেষ্টা করেন এবং ভবনটি লকডাউন করেন। এর ফলে ভেতরে থাকা প্রায় ১৪০ শিশুকে সুরক্ষিত রাখা সম্ভব হয়।

তবে হামলায় নিরাপত্তাকর্মী আমিন আবদুল্লাহ, মানসুর কাজিহা ও নাদের আওয়াদ নিহত হন। পরে হামলাকারী দুজন কাছাকাছি একটি গাড়িতে নিজেদেরও গুলি করে হত্যা করে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

প্রসিকিউটর ও’নিল জানান, হামলাকারীরা শরীরে সংযুক্ত গোপ্রো ক্যামেরার মাধ্যমে পুরো হামলা সরাসরি সম্প্রচার করেছিল। তাঁর দাবি, মসজিদে হামলার পর একটি স্থানীয় ইহুদি উপাসনালয় এবং আফ্রিকান-আমেরিকান সংখ্যাগরিষ্ঠ একটি উচ্চবিদ্যালয়ে হামলা চালানোরও পরিকল্পনা ছিল তাদের।

নতুন এই মামলার মধ্য দিয়ে তদন্তে হামলার সঙ্গে অনলাইনে যুক্ত থাকা এবং হামলাকারীদের মতাদর্শ প্রচারে সহায়তাকারীদের ভূমিকা নিয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে অভিযুক্ত কিশোরীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে আদালতে তার দায় স্বীকার বা অস্বীকারের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

এমএজেড
আরও পড়ুন