১২জন পুরুষ দিয়ে স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন, বিচার শুরু

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫২ এএম

যুক্তরাজ্যে স্ত্রীকে মাদক খাইয়ে অচেতন করে অন্য পুরুষদের দিয়ে যৌন নির্যাতনের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগে এক ব্রিটিশ স্বামীর বিচার শুরু হয়েছে। একই মামলায় তার সঙ্গে আরও ১২ জন পুরুষকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি ম্যানচেস্টারের ক্রাউন কোর্টে বিচারাধীন।

৬০-এর কোঠায় থাকা ওই স্বামীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্ত্রীকে মাদক প্রয়োগ করে অচেতন অবস্থায় রাখতেন এবং পরে অন্য পুরুষদের তার ওপর যৌন নির্যাতনের সুযোগ করে দিতেন। তিনি এর আগে ৪৮টি অভিযোগে নিজেকে নির্দোষ দাবি করেছিলেন। এসব অভিযোগের মধ্যে ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং অন্যদের সঙ্গে ধর্ষণের ষড়যন্ত্রের অভিযোগও রয়েছে।

মামলার ১২ সহ-আসামির বয়স ২৮ থেকে ৭৩ বছরের মধ্যে। তাদের বিরুদ্ধে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের আইনগত প্রতিবন্ধকতার কারণে অভিযোগকারী নারী ও তার স্বামীর পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। সহ-আসামিদের পরিচয়ও বিভিন্ন পর্যায়ে আদালতের বিধিনিষেধের আওতায় রয়েছে।

আদালতে এখন পর্যন্ত একজন সহ-আসামি সংশ্লিষ্ট অভিযোগে দোষ স্বীকার করেছেন। অন্যরা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ১৩ আসামির বিচার সেপ্টেম্বর মাসে চলার কথা রয়েছে।

এদিকে মামলার প্রধান অভিযুক্ত স্বামী জুনে নিজের বিরুদ্ধে আনা কিছু যৌন অপরাধের অভিযোগ স্বীকার করেছিলেন। তিনি দুইটি ধর্ষণসহ মোট ১২টি যৌন অপরাধে দোষ স্বীকার করেন। তবে অন্যদের সঙ্গে স্ত্রীকে ধর্ষণের ষড়যন্ত্র এবং তাকে অচেতন করার অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেছেন। আদালতে স্বীকার করা অপরাধগুলো ২০২২ থেকে ২০২৫ সালের মধ্যে সংঘটিত বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই মামলাটি যুক্তরাজ্যে মাদক প্রয়োগ করে যৌন নির্যাতন বা ড্রাগ-ফ্যাসিলিটেটেড সেক্সুয়াল অ্যাসল্ট নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। দেশটির ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সি (NCA) সম্প্রতি জানিয়েছে, তারা এমন একটি আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্কের সন্ধান পেয়েছে, যেখানে পরিচিত নারীদের মাদক প্রয়োগ করে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে। তদন্তে বিভিন্ন দেশের ২৭০ জনের বেশি ব্যক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে।

তদন্তকারীদের মতে, এ ধরনের অপরাধ শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে, কারণ মাদক প্রয়োগের ফলে ভুক্তভোগীরা অনেক সময় ঘটনার পুরোটা মনে রাখতে পারেন না। ফলে অনেক ঘটনা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে রিপোর্টও হয় না।

এমএমজেড
আরও পড়ুন