ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস পুতিনের

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে জুনে স্বাক্ষরিত যুদ্ধবিরতির সমঝোতা ‘অস্থিতিশীল ও অত্যন্ত ভঙ্গুর’ ছিল বলে মন্তব্য করেছেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। একই সঙ্গে চলমান সংকটের মধ্যে তেহরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) সম্মেলনের ফাঁকে মঙ্গলবার ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে পুতিন এসব কথা বলেন।

পুতিন বলেন, জুনে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্বাক্ষরকে মস্কো স্বাগত জানিয়েছিল। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেই যুদ্ধবিরতি অস্থিতিশীল এবং অত্যন্ত ভঙ্গুর প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এই কঠিন সময়ে’ রাশিয়া ইরানকে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার চেষ্টা করছে। মস্কো ইতোমধ্যে তেহরানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা করেছে এবং প্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ করছে বলেও জানান রুশ প্রেসিডেন্ট।

বৈঠকে পুতিন ইরানের জনগণের সাহস ও নিজেদের জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দৃঢ়তার প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে রাশিয়া ও ইরানের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।

জবাবে পেজেশকিয়ান রাশিয়ার অবস্থানের জন্য পুতিনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, মস্কো ও তেহরানের কৌশলগত সম্পর্ক ইরানকে যুক্তরাষ্ট্রের মোকাবিলায় সহায়তা করেছে। তাঁর ভাষায়, দুই দেশ একসঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ‘একতরফাবাদ’ মোকাবিলা করতে পারে।

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কয়েক সপ্তাহের তুলনামূলক সামরিক বিরতির পর সাম্প্রতিক সময়ে আবারও সরাসরি সংঘাত তীব্র হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক সামরিক সক্ষমতা, মাইন স্থাপনের অবকাঠামো ও যোগাযোগব্যবস্থায় নতুন দফা হামলা চালিয়েছে বলে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে।

এর পাল্টা জবাবে ইরান জর্ডান, বাহরাইন ও ইরাকে মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে জানা গেছে। ফলে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনাও আরও বেড়েছে।

এ অবস্থায় পুতিনের তেহরানকে সহায়তার ঘোষণা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাতে রাশিয়ার অবস্থানকে আরও স্পষ্ট করেছে। মস্কো ও তেহরানের ঘনিষ্ঠ কৌশলগত সম্পর্কের কারণে চলমান সংঘাত আরও দীর্ঘায়িত হলে এর ভূরাজনৈতিক প্রভাব মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

সূত্র: আনাদুলো এজেন্সি

এমএজেড
আরও পড়ুন