যুক্তরাষ্ট্রে হেফাজতের অভিজ্ঞতা ছিলো 'ভয়াবহ' ও 'আতঙ্কজনক': মাইলো 

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০৫ এএম

যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিতাড়নের পর প্রথমবারের মতো মুখ খুলেছেন ব্রিটিশ ডানপন্থী ভাষ্যকার মাইলো ইয়ান্নোপুলস। দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষের হেফাজতে থাকার অভিজ্ঞতাকে ‘ভয়াবহ’ ও ‘আতঙ্কজনক’ বর্ণনা করে তিনি বলেছেন, এই অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করার বিষয়ে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে।

ব্রিটিশ সম্প্রচারক পিয়ার্স মরগানের অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ান্নোপুলস বলেন, ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইসিই) কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তারের সময় তিনি প্রথমবারের মতো ‘সত্যিই ভীষণ আতঙ্কিত’ বোধ করেন। তাঁর দাবি, গ্রেপ্তারের সময় তাঁর হাত ও পায়ে হাতকড়া পরানো হয়েছিল এবং পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল শারীরিক ও মানসিকভাবে অত্যন্ত কঠিন।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন ব্যবস্থার ‘প্রাতিষ্ঠানিক কঠোরতা’ আগে তিনি যে মাত্রায় বুঝতে পারেননি, নিজের অভিজ্ঞতার পর তা উপলব্ধি করেছেন। একসময় ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন নীতির সমর্থক ইয়ান্নোপুলস এখন সেই সমর্থনের জন্য অনুতপ্ত বলেও জানিয়েছেন।

‘এ ধরনের কিছু সম্ভব—এ বিষয়ে যদি আমার সামান্যতম ধারণাও থাকত, তাহলে শুরু থেকেই ট্রাম্পকে সমর্থন করতাম না। আমি এতে খুবই লজ্জিত,’—সাক্ষাৎকারে বলেন তিনি।

মার্কিন হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের (ডিএইচএস) তথ্য অনুযায়ী, ইয়ান্নোপুলস ২০১৯ সালের মে মাসে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশ করেছিলেন। তবে পরে তাঁর অনুমোদিত থাকার মেয়াদ শেষ হয়ে যায় এবং তিনি একটি নির্ধারিত অভিবাসন শুনানিতে উপস্থিত হননি। এরপর গত ২২ জুলাই তাঁর বিরুদ্ধে চূড়ান্ত বহিষ্কার আদেশ জারি করা হয়।

২৭ আগস্ট লুই আর্মস্ট্রং নিউ অরলিন্স আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আইসিই কর্মকর্তারা তাঁকে আটক করেন। পরদিন তাঁকে যুক্তরাজ্যে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন কর্তৃপক্ষ বলেছে, তাঁর বিরুদ্ধে বহিষ্কার কার্যকর করা হয়েছে অভিবাসন আইনের লঙ্ঘন, শুনানিতে অনুপস্থিতি এবং বহিষ্কার আদেশের ভিত্তিতে।

তবে ইয়ান্নোপুলস দাবি করেছেন, তাঁর অভিবাসন পরিস্থিতি নিয়ে জটিলতা ছিল এবং তিনি যুক্তরাষ্ট্রে থাকার বৈধতা নবায়নের প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন। তিনি আরও বলেছেন, গত এক বছরে তাঁর ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করা হলেও তাঁকে তা জানানো হয়নি।

ইয়ান্নোপুলস একসময় ট্রাম্পের অন্যতম সোচ্চার সমর্থক ছিলেন এবং কঠোর অভিবাসন নীতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছিলেন। ২০১৬ সালের ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রচারের সময় ডানপন্থী রাজনীতির সঙ্গে তাঁর ঘনিষ্ঠতা বাড়ে। পরবর্তী সময়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপেরও সমর্থন করেন।

কিন্তু নিজের আটক ও বিতাড়নের অভিজ্ঞতার পর ট্রাম্প প্রশাসনের অভিবাসন নীতির বিষয়ে তাঁর অবস্থানে বড় পরিবর্তন এসেছে। তিনি ট্রাম্পকে সমর্থনের জন্য প্রকাশ্যে অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।

ইয়ান্নোপুলসের বিতাড়নকে কেন্দ্র করে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগী লরা লুমারের সঙ্গেও তাঁর বিরোধ তীব্র হয়েছে। লুমার দাবি করেছেন, ইয়ান্নোপুলসের অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি ফেডারেল কর্মকর্তাদের একাধিকবার অবহিত করেছিলেন। তবে বিষয়টি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে করা হয়েছিল—এমন অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।

ট্রাম্প প্রশাসনের সীমান্তবিষয়ক কর্মকর্তা টম হোমান বলেছেন, ইয়ান্নোপুলসকে কোনো বিশেষ কারণে দ্রুত বিতাড়িত করা হয়নি। তাঁর ভাষ্য, আদালতের বহিষ্কার আদেশ কার্যকর করাই ছিল আইসিইর দায়িত্ব।

ইয়ান্নোপুলসের এই অভিজ্ঞতা যুক্তরাষ্ট্রের ট্রাম্প প্রশাসনের কঠোর অভিবাসন নীতিকে নতুন করে আলোচনায় এনেছে—বিশেষ করে এমন একজন ব্যক্তির ক্ষেত্রে, যিনি একসময় একই নীতির জোরালো সমর্থক ছিলেন।

এমএজেড
আরও পড়ুন