ট্রাম্প ক্ষমা করার পর হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্টের দুর্নীতি মামলা খারিজ

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৯ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়ার কয়েক মাস পর হন্ডুরাসে সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরলান্দো হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে চলমান প্রতারণা ও অর্থপাচারের মামলা খারিজ করে দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। মঙ্গলবারের এই রায়ে হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে দেশে থাকা সর্বশেষ আইনি জটিলতাও কার্যত শেষ হলো।

হন্ডুরাসের বিচার বিভাগের মুখপাত্র কার্লোস সিলভা জানান, মামলার সময়কার বাজেট-সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের জন্য হার্নান্দেজ দায়ী ছিলেন—এমন প্রমাণ আদালতে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা সরকারি অর্থ তাঁর ২০১৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ব্যবহার করা হয়েছিল কি না, সেটিও নিশ্চিত করা যায়নি।

মামলাটি ‘পান্দোরা’ দুর্নীতি তদন্তের অংশ। প্রসিকিউটরদের অভিযোগ ছিল, ২০১০ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে হার্নান্দেজসহ কয়েকজন প্রভাবশালী কর্মকর্তা প্রায় ১০ দশমিক ৮ মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ রাজনৈতিক প্রচারে সরিয়ে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে প্রায় ২ দশমিক ৩ মিলিয়ন ডলার হার্নান্দেজের নির্বাচনী প্রচারে ব্যবহৃত হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছিল।

রায় ঘোষণার পর আদালতের বাইরে সমর্থকদের উদ্দেশে হার্নান্দেজ বলেন, তিনি এই ফলাফল প্রত্যাশা করেছিলেন, কারণ মামলাটির কোনো ভিত্তি ছিল না। তিনি পুরো ঘটনাকে ‘রাজনৈতিক নিপীড়ন’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তবে দুর্নীতিবিরোধী সংগঠনগুলো রায় নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তাদের আশঙ্কা, এ ধরনের সিদ্ধান্ত দেশটির বিচারব্যবস্থার ওপর জনগণের আস্থা আরও দুর্বল করতে পারে।

হার্নান্দেজ ২০১৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট ছিলেন। ২০২২ সালে তাঁকে মাদক পাচারের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রে প্রত্যর্পণ করা হয়। ২০২৪ সালে নিউইয়র্কের একটি আদালত তাঁকে যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ কোকেন পাচারের ষড়যন্ত্রের দায়ে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড দেয়। পরে ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁকে ক্ষমা করেন।

ট্রাম্পের ক্ষমার পর যুক্তরাষ্ট্রের আদালতও হার্নান্দেজের আপিল মামলাটি খারিজ করে আগের রায় বাতিল করে দেয়। চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি হন্ডুরাসে ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলাটিই ছিল প্রধান আইনি ঝুঁকি।

ট্রাম্পের ক্ষমা ঘোষণার সময়টি নিয়েও ব্যাপক রাজনৈতিক বিতর্ক হয়েছিল। হন্ডুরাসের ২০২৫ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ঠিক আগে ক্ষমার ঘোষণা আসে। ট্রাম্প সে সময় হার্নান্দেজের রাজনৈতিক দল ন্যাশনাল পার্টির প্রার্থী নাসরি আসফুরাকে সমর্থন করেছিলেন এবং নির্বাচনের ফল নিয়ে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের অভিযোগও ওঠে। আসফুরাই শেষ পর্যন্ত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে জয়ী হন।

হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে হন্ডুরাসের মামলাটি খারিজ হলেও প্রসিকিউটরদের আপিলের সুযোগ রয়েছে। ফলে মঙ্গলবারের রায়ই চূড়ান্ত আইনি নিষ্পত্তি কি না, তা এখনো পুরোপুরি নিশ্চিত নয়।

এমএজেড
আরও পড়ুন