কুয়েতে মার্কিন ঘাঁটিতে হামলা, একাধিক সেনা নিহত ও ড্রোন ধ্বংসের দাবি ইরানের

আপডেট : ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০৬ পিএম

কুয়েতে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে হামলা চালিয়ে কয়েকজন মার্কিন সেনাকে হত্যার পাশাপাশি একাধিক ড্রোন ধ্বংস করার দাবি করেছে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)।

ইরানি সংবাদমাধ্যম ও আইআরজিসির বক্তব্য অনুযায়ী, কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়। সেখানে মার্কিন কমান্ডারের সদর দপ্তর, সেনাদের আবাসন এবং ড্রোন-সংক্রান্ত স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে বলে দাবি করেছে ইরান।

আইআরজিসি আরও দাবি করেছে, হামলায় মার্কিন বাহিনীর কয়েকজন সদস্য নিহত হয়েছেন এবং কয়েকটি ড্রোন ধ্বংস হয়েছে। তবে হতাহতের নির্দিষ্ট সংখ্যা প্রকাশ করা হয়নি। এ দাবির বিষয়ে এখনো মার্কিন সামরিক বাহিনী বা কুয়েতি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সরাসরি হামলা-পাল্টা হামলা শুরু হওয়ার মধ্যেই কুয়েতে এই হামলার দাবি সামনে এলো। মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় নতুন দফায় হামলা চালায়। মার্কিন সেন্টকম জানিয়েছে, এসব হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, রাডার, সামুদ্রিক স্থাপনা, মাইন পাতা-সংক্রান্ত সক্ষমতা এবং যোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করা হয়েছে।

এর পাল্টায় ইরান মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে। জর্ডান ও বাহরাইন তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। কুয়েতও ইরানি হামলার মুখে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করেছে।

কুয়েতের আলি আল-সালেম বিমানঘাঁটি দীর্ঘদিন ধরে মার্কিন সামরিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। চলমান সংঘাতে ঘাঁটিটি এর আগেও ইরানি হামলার লক্ষ্য হয়েছে। জুলাই মাসে আইআরজিসি দাবি করেছিল, ওই ঘাঁটিতে হামলায় মার্কিন সেনা হতাহত এবং ড্রোন-সংক্রান্ত স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেসময়ও কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের দাবির পূর্ণাঙ্গ নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

এদিকে নতুন করে হামলা-পাল্টা হামলার ফলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান ও ইরাকে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি থাকায় এসব দেশের ভূখণ্ড সংঘাতের নতুন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পারে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে সামরিক উত্তেজনা বিশ্ববাজারেও প্রভাব ফেলছে। বুধবার আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৫ ডলারের ওপরে উঠে যায়।

তবে কুয়েতের মার্কিন ঘাঁটিতে মার্কিন সেনা নিহত এবং ড্রোন ধ্বংসের বিষয়ে ইরানের দাবিগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সূত্র: এনডিটিভি

এমএজেড
আরও পড়ুন