ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনায় বাড়ছে তেলের দাম

আপডেট : ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:২০ এএম

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সামরিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। এর প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারে। শুক্রবারও (৪ সেপ্টেম্বর) অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে এবং চলতি সপ্তাহে জুলাইয়ের মাঝামাঝির পর সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে।

শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় (জিএমটি) রাত ১টায় ব্রেন্ট ক্রুডের ফিউচার দর ১৫ সেন্ট বা ০.২ শতাংশ বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৯৫ দশমিক ৬৭ ডলারে উঠেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২৬ সেন্ট বা ০.৩ শতাংশ বেড়ে ৯১ দশমিক ৫৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে নতুন করে সংঘাত তীব্র হওয়ায় মধ্যপ্রাচ্যের তেল সরবরাহ নিয়ে বাজারে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে উত্তেজনা জ্বালানি সরবরাহের ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

চলতি সপ্তাহে এখন পর্যন্ত ব্রেন্টের দাম বেড়েছে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। আর ডব্লিউটিআইয়ের দাম বেড়েছে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এই হিসাবে ২০ জুলাই শেষ হওয়া সপ্তাহের পর এবারই সবচেয়ে বড় সাপ্তাহিক মূল্যবৃদ্ধির পথে রয়েছে দুই বেঞ্চমার্ক।

এর আগে মঙ্গলবারও তেলের বাজারে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা যায়। সেদিন ব্রেন্টের দাম ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ৯৪ দশমিক ৬৫ ডলারে এবং ডব্লিউটিআই ৫ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে ৯০ দশমিক ২২ ডলারে ওঠে। মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ায় সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কাই তখন বাজারে বড় প্রভাব ফেলেছিল।

এদিকে তেলের দাম বাড়ার পেছনে হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথটিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ী ও বিনিয়োগকারীরা সম্ভাব্য সরবরাহ ঘাটতির ঝুঁকি হিসাব করছেন।

তবে বাজারে কিছুটা ভারসাম্য ফেরানোর সম্ভাবনাও রয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ইউক্রেন যুদ্ধ অবসানে একটি চুক্তির সম্ভাবনার কথা বলেছেন। এতে রাশিয়ার জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে ভূরাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কিছুটা কমতে পারে বলে মনে করছেন বাজার পর্যবেক্ষকেরা।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে তেলের বাজারে অস্থিরতা আরও বাড়তে পারে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ও মধ্যপ্রাচ্যের উৎপাদন অবকাঠামোতে বড় ধরনের বিঘ্ন ঘটলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

ওয়াইএ
আরও পড়ুন