কাতারে হামলা চালানো এবং সেখানে বোমা ফেলার বিষয়ে প্রকাশ্যে বড়াই করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি দাবি করেন, কাতার একটি শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্র হিসেবে কাজ করেছে এবং সংঘাতের সময়েও তারা ইসরায়েলের নীতি নির্ধারণ করতে পারেনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ইসরায়েলের i24NEWS-কে দেওয়া ওই সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু জানান, যুদ্ধের সময় তিনি কাতারে হামলা চালিয়েছেন এবং কাতারও তাঁর ওপর আক্রমণ চালিয়েছে। মূলত ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দোহায় পরিচালিত ইসরায়েলি বিমান হামলার বর্ষপূর্তির ঠিক আগেই এই সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ্যে এলো।
উল্লেখ্য, দোহার ওই হামলায় হামাসের পাঁচ সদস্যের পাশাপাশি কাতারের একজন নিরাপত্তা কর্মকর্তাও প্রাণ হারিয়েছিলেন। তখন মার্কিন সমর্থিত একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিয়ে সেখানে বৈঠক চলছিল। এই ঘটনাকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন ও কাপুরুষোচিত আক্রমণ হিসেবে অভিহিত করে তীব্র নিন্দা জানিয়েছিল কাতার।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এই আক্রমণকে কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর বড় আঘাত বলে উল্লেখ করেছিলেন। এ ঘটনার পর আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক চাপের মুখে হোয়াইট হাউসে আয়োজিত এক বৈঠক থেকে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও নেতানিয়াহু যৌথভাবে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
সাক্ষাৎকারে গাজায় কাতারি অর্থ সহায়তা পৌঁছানোর বিষয়ে নিজের অবস্থানের সপক্ষে সাফাই গান নেতানিয়াহু। তিনি দাবি করেন, মোসাদ ও শিন বেতের পরামর্শেই মানবিক কাজের জন্য ওই অর্থ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। এই অর্থ গাজায় ঢোকা মোট তহবিলের মাত্র ২ শতাংশ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
ইসরায়েলের অভ্যন্তরীণ সমালোচকরা দাবি করে আসছেন, এই অর্থ ব্যবহারের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল হামাস। তবে কাতার স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাঁদের পাঠানো প্রতিটি অর্থের ওপর কঠোর নজরদারি ছিল এবং তা সরাসরি গাজার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছেছে।
আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরায়েলে সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচনকে সামনে রেখে অভ্যন্তরীণ চাপ সামলাতে এবং জাতীয়তাবাদী ভোটব্যাঙ্ক একাট্টা করতেই নেতানিয়াহু অন্যান্য দেশের বিরুদ্ধে এমন আগ্রাসী বক্তব্য দিচ্ছেন।
সূত্র: আল জাজিরা
মার্কিন হামলায় ওমান সাগরে তলিয়ে গেল ইরানি ট্যাঙ্কার
গাজায় তিন বছর পর মিললো ৫৫ ফিলিস্তিনির দেহাবশেষ