ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় কুহেস্তাক শহরে বিয়ের অনুষ্ঠানে মার্কিন হামলার ঘটনায় ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা জানিয়েছেন এক প্রত্যক্ষদর্শী। বিয়ের আনন্দঘন পরিবেশে নারীরা উলুধ্বনি দিচ্ছিলেন। হঠাৎ বিকট বিস্ফোরণে মুহূর্তেই বদলে যায় পুরো পরিস্থিতি।
ইরানি সংবাদমাধ্যমের বরাতে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাতে হরমুজ প্রণালির উপকূলীয় শহর কুহেস্তাকে একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল। ওই সময় সেখানে কয়েক ডজন মানুষ জড়ো হয়েছিলেন। একটি মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র বাড়িটিতে আঘাত হানলে ভবনের ছাদ ও দেয়াল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং চারদিকে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ে।
হামলার পর আহতদের পাশের মিনাব শহরের হাসপাতালে নেওয়া হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, হামলায় দুই নারী ও ৪ ও ১৬ বছর বয়সী দুই শিশু নিহত হয়েছেন এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন। তবে হামলার পরপরই স্থানীয় কর্মকর্তারা পাঁচজন নিহত হওয়ার কথা জানিয়েছিলেন।
এক প্রত্যক্ষদর্শী জানান, তিনি বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় আকাশে যুদ্ধবিমান দেখতে পান। সেখানে পৌঁছানোর মুহূর্তেই বিস্ফোরণ ঘটে। বিস্ফোরণের পর ইট-পাথর মানুষের মাথায় পড়তে থাকে এবং অনেক নারী ও শিশু গুরুতর আহত হন।
ইরানের রেড ক্রিসেন্টও ঘটনাস্থলের ভিডিও প্রকাশ করেছে। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন, ছাদে বড় গর্ত এবং চারদিকে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষ দেখা যায়। ঘটনাটি নিয়ে ইরান যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধাপরাধের’ অভিযোগ তুলেছে এবং আন্তর্জাতিক তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অন্যদিকে, মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তারা বিয়ের অনুষ্ঠানে হামলার খবর সম্পর্কে অবগত এবং বিষয়টি খতিয়ে দেখছে। তবে হামলাটি কীভাবে ঘটেছে বা সেখানে কোনো সামরিক লক্ষ্য ছিল কি না, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ঘটনাটি এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের মধ্যে হরমুজ প্রণালি অঞ্চলটি যুদ্ধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ফ্রন্টে পরিণত হয়েছে।
পে স্কেলের প্রজ্ঞাপন রোববারে প্রকাশ নিয়ে নতুন জটিলতা?
রাজধানীতে কালো ধোঁয়ার গাড়ি দেখলেই ব্যবস্থা নেবে ডিএমপি